রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বর্তমানে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া, আর এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেখানে আটকে পড়া কয়েক হাজার ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন নরেন্দ্র মোদী সরকার। সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে, যার ফলে গোটা অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিমান পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ প্রবাসীদের পাশাপাশি বহু ভারতীয় সেখানে আটকা পড়েছেন।
এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত সরকার পশ্চিম এশিয়ায় আটকে থাকা প্রতিটি নাগরিককে নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে এবং সেখানে আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রহ্লাদ জোশী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ভারতীয় নাগরিকরা যখনই বিপদে পড়েছেন, মোদী সরকার সর্বদা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সফলভাবে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করেছে, যার উদাহরণ অতীতেও বারবার দেখা গিয়েছে। বর্তমানে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও মিশনগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে যাতে একটি নিরাপদ করিডোর তৈরি করে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনা যায়। বিশেষত কর্নাটক সরকার জানিয়েছে যে তাদের রাজ্যের শতাধিক মানুষ বর্তমানে ওই অঞ্চলে আটকে আছেন, যে বিষয়ে কেন্দ্র বিশেষ নজর দিচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে ভারত সর্বদা শান্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়, তবে এই মুহূর্তে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা প্রদানই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পক্ষ থেকে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং সরকার সকল ভারতীয়কে নিরাপদে ফেরাতে দায়বদ্ধ। সামগ্রিকভাবে, পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমায় বিমান চলাচলের জটিলতা থাকলেও বিকল্প পথে এবং বিশেষ উদ্ধারকারী বিমানের মাধ্যমে দ্রুত এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য কেন্দ্র সমস্ত প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে রেখেছে।

