রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর এলাকায় এক শিক্ষিত যুবকের চরম নৃশংসতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অভিযুক্ত যুবক হার্দিক, যিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের বাসিন্দা, নিজের আপন বোন হিমাংশিকাকে কুপিয়ে খুন করার পর মা নীলিমাকে হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় হার্দিকের জীবনযাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন এবং একটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক মাস ধরেই হার্দিকের আচরণে ব্যাপক অসংলগ্নতা দেখা দিচ্ছিল।
তিনি গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন, কারও সঙ্গে কথা বলতেন না এবং সারাক্ষণ অনলাইনে কোনো এক ভিনধর্মী তরুণীর সঙ্গে কথোপকথনে মগ্ন থাকতেন। জানা গেছে, ওই তরুণীকে হার্দিক বিয়ে করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর মা ও বোন তাতে ঘোর আপত্তি জানান। এই নিয়ে পরিবারের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মা ও বোন মিলে হার্দিকের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষোভ থেকেই গত ৬ মার্চ গুরুগ্রামের ভাড়াবাড়িতে বোন হিমাংশিকার সঙ্গে হার্দিকের প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি হয়। রাগের মাথায় হার্দিক একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বোনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং হিমাংশিকাকে লক্ষ্য করে একের পর এক ৮৪ বার ছুরিকাঘাত করেন বলে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তরুণীর। এরপরই শুরু হয় হার্দিকের এক ভয়ঙ্কর মনস্তাত্ত্বিক খেলা। বোনকে খুনের পর তিনি মোরাদাবাদে নিজের বাড়িতে গিয়ে মাকে জানান যে, গুরুগ্রামের বাড়িতে তাঁর জন্য একটি বিশেষ 'চমক' অপেক্ষা করছে। পুত্রের কথা বিশ্বাস করে নীলিমা দেবী তাঁর সঙ্গে গুরুগ্রামের ফ্ল্যাটে পৌঁছালে, হার্দিক মেঝের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বোনের নিথর দেহটি দেখিয়ে পৈশাচিক উল্লাসে বলেন, “দেখো, এটাই তোমার জন্য সারপ্রাইজ!” হতভম্ব মা যখন আতঙ্কে চিৎকার করে পাড়া-প্রতিবেশীদের ডাকার চেষ্টা করেন, তখন হার্দিক নিজের মাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুনের চেষ্টা করেন। নীলিমা দেবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে হার্দিক ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নীলিমা দেবীকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতক হার্দিককে গ্রেফতার করে। উচ্চশিক্ষিত এক যুবক কীভাবে এতটা নৃশংস হয়ে উঠতে পারেন, তা নিয়ে বর্তমানে সমাজতাত্ত্বিক ও মনোবিদদের মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। হার্দিকের এই উন্মত্ততা কেবল পারিবারিক বিরোধ নয়, বরং কোনো গভীর মানসিক বিকৃতি বা ডিজিটাল আসক্তির ফল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত জারি রয়েছে।

