রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে উঠল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিকেলে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি তামিলনাড়ু, কেরল, অসম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতেও একই সঙ্গে এই গণতান্ত্রিক মহোৎসব উদযাপিত হতে চলেছে। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আগামী ২২ এপ্রিল থেকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
মোট তিনটি প্রধান দফায় ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কমিশন, যা পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় দফাসংখ্যায় কিছুটা কম। ভোটের এই নির্ঘণ্ট ঘোষণার সাথে সাথেই গোটা রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কনডাক্ট বলবৎ হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা এবং ভোট গণনা সম্পন্ন হবে আগামী ৩রা মে। নির্বাচন কমিশনের জারি করা এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ আগামী ৭ মে শেষ হতে চলেছে, আর সেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় বেশ কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে কমিশন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। রাজ্যে মোট ৮০,৬৮১টি বুথেই ভোটগ্রহণ করা হবে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পর্যাপ্ত মোতায়েন নিশ্চিত করা হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খসড়া তালিকা থেকে অসংগতি দূর করার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতিমধ্যে রাজ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতির তদারকি করতে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহল এই ঘোষণার পর থেকেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে রাজ্যের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি যেমন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপি এবং বাম-কংগ্রেস জোট তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে ও নির্বাচনী প্রচারের রূপরেখা সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে কারণ সমস্ত পক্ষই জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি এবং উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ এবার নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটারদের সুবিধার্থে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো বা ভোটার তালিকায় নাম দেখার সুবিধাও রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক সপ্তাহ পশ্চিমবঙ্গসহ সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি এক উৎসবমুখর এবং রাজনৈতিক চর্চাময় পরিস্থিতির সাক্ষী হতে চলেছে, যেখানে জনগণের রায়ে নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের শাসনভার কার হাতে থাকবে।

