রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ফসলের স্তূপ আর বাবার চোখের জল মধ্যপ্রদেশের এক কৃষক হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে জমিতে ফসল ফলিয়েছিলেন এই আশায় যে, ফসল বিক্রির টাকা দিয়ে ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেবেন। কিন্তু বাজারের চরম অব্যবস্থাপনা বা ন্যায্য মূল্যের অভাবে সেই ফসল তিনি বিক্রি করতে পারেননি। বাজারের মন্দা বা নিম্নমূল্য, অনেক সময় আড়তে বা মান্ডিতে ফসলের দাম এতটাই কমে যায় যে, তা দিয়ে উৎপাদন খরচই ওঠে না।
পর্যাপ্ত ক্রেতার অভাব অথবা সরকারি ক্রয়কেন্দ্রের গড়িমসি কৃষকদের কোণঠাসা করে ফেলে। যখন দরজায় কড়া নাড়ছে মেয়ের বিয়ের সানাই, অথচ হাতে এক টাকাও নেই, তখন একজন বাবার অসহায়ত্ব আকাশ ছুঁয়ে যায়। কাল মেয়ের বিয়ে ভাইরাল হওয়া খবর বা ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কৃষক তাঁর ফসলের বস্তার সামনে বসে হাউহাউ করে কাঁদছেন। তাঁর একটাই আর্তনাদ— কাল মেয়ের বিয়ে, অথচ ফসল বিক্রি হলো না! আমি এখন প্যান্ডেল, খাবার আর অন্যান্য খরচ দেব কী করে? এই কান্না কেবল একজন কৃষকের নয়, এটি ভারতের কৃষি ব্যবস্থার এক করুণ বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। যেখানে অন্নদাতা নিজেই নিজের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন। সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব, অনেক কৃষক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে চাষ করেন। ফসল না বিকোলে সেই ঋণের জালে তারা আরও জড়িয়ে পড়েন। মানসিক চাপ, মেয়ের বিয়ে ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ার ভয় একজন মানুষকে চরম হতাশায় ডুবিয়ে দেয়। প্রশাসনের ভূমিকা এই ধরনের ঘটনা সামনে আসার পর সাধারণত প্রশাসনের টনক নড়ে, কিন্তু ততক্ষণে কৃষকের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়। ক্ষেত থেকে যে ফসল সোনার মতো ঘরে আসার কথা ছিল, আজ তা-ই এক বাবার চোখের জলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

