Type Here to Get Search Results !

Mamata Banarjee : ভোটের ময়দানে তৃণমূল, উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করে প্রচার শুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারের রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছেন। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ধারা বজায় রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকেই তাঁর প্রচার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আগামী ২৪ মার্চ থেকে তাঁর এই প্রচার সফর শুরু হতে চলেছে। 

উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছিল, যা পুনরুদ্ধার করা তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সফরের সূচি অনুযায়ী, তিনি আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে একটি বিশাল জনসভার মাধ্যমে প্রচারের সূচনা করবেন। এরপর শিলিগুড়ির মাটিগাড়া এবং জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতেও তাঁর জনসভা করার কথা রয়েছে। মজার বিষয় হলো, সাধারণত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে প্রচার শুরু করেন না, কিন্তু এবার তিনি উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগেই ভবানীপুরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে একটি বিশেষ রণকৌশল বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা এসআইআর  সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে কর্মীদের সতর্ক করেছেন এবং আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের দায়িত্ব সামলাবেন। ২৫ মার্চ থেকে তিনি মেদিনীপুর বেল্টে প্রচার শুরু করবেন, যার মধ্যে নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও রয়েছে। 

তৃণমূলের এবারের স্ট্র্যাটেজি হলো টুইন-ফ্রন্ট বা দ্বিমুখী আক্রমণ, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সামলাবেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গ। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে রাজ্যে ভোট হবে দুটি দফায় ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হবে, তাই মুখ্যমন্ত্রী শুরুতেই সেখানে নিজের পুরো শক্তি উজাড় করে দিতে চাইছেন। এবারের লড়াইয়ে তৃণমূলের মূল ইস্যু হলো 'উন্নয়ন' এবং 'বাঙালি অস্মিতা', যা নিয়ে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা করেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীও ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নামায় এই কেন্দ্রটি এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর এই লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ রাজ্যের শাসক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঠাসা কর্মসূচি এবং উত্তরবঙ্গকে পাখির চোখ করা এটাই প্রমাণ করে যে, তিনি প্রতিটি বুথ স্তরে সংগঠনের শক্তি যাচাই করে নিতে চাইছেন। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে তিনি কেবল বড় সভাই নয়, বরং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপরও সমান জোর দিচ্ছেন। এই প্রচার সূচি থেকেই পরিষ্কার যে, পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই তৃণমূল নেত্রী নিজের ক্যারিশমা ব্যবহার করে বিরোধীদের রুখে দিতে মরিয়া।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad