Type Here to Get Search Results !

Operation : ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীর বাড়ি থেকে বন্দুক ও ২৮ তাজা বোমা উদ্ধার

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : অশান্তির আবহের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। বুধবার নতুন থানা উদ্বোধনের ঠিক আগের রাতে অভিযানে নেমে এক আইএসএফ কর্মীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হল একটি দেশি বন্দুক ও ২৮টি তাজা বোমা। মঙ্গলবার কাশীপুর থানা এলাকার বানিয়ারা গ্রামে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার উত্তর কাশীপুর থানা ভেঙে বিজয়গঞ্জ বাজার থানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা। তার আগে গোপন সূত্রে খবর পায় উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে বানিয়ারা গ্রামে হানা দেওয়া হয়। অভিযানে বিপুল সামিম খাঁন নামে এক আইএসএফ কর্মীর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২৮টি তাজা বোমা এবং একটি দেশি তৈরি বন্দুক। বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করার জন্য বোম্ব স্কোয়াডকে খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান। আশপাশের বাড়িতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অশান্তির জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি আইএসএফের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতা খাইরুল ইসলামের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিন জন তৃণমূল কর্মীকে মারধর ও একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে আসে।

 এই ঘটনার প্রতিবাদে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েছিলেন ভাঙড়ের বিধায়ক শওকত মোল্লা। অভিযোগ, সেখান থেকে ফেরার পথে তাঁর ও তাঁর অনুগামীদের গাড়ি লক্ষ্য করে আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীরা গুলি ও বোমা ছোড়ে।এই পটভূমির মধ্যেই মঙ্গলবারের এই উদ্ধার অভিযান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নতুন থানা উদ্বোধনের আগে বিপুল পরিমাণ বোমা ও বন্দুক উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা সজাগ রয়েছে। কোনওভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।সব মিলিয়ে, নতুন থানার উদ্বোধনের আগের রাতেই এই উদ্ধার অভিযান ভাঙড়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad