রাতদিন ওয়েবডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের মুজফ্ফরনগরে পুলিশের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হল কুখ্যাত দুষ্কৃতী আমজাদের। বুধবার গভীর রাতে বুঢানা এলাকার বিজ্ঞান রোড সংলগ্ন একটি জঙ্গলে এই ‘এনকাউন্টার’-এর ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই আমজাদকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। পুলিশের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকাতেও ছিল তাঁর নাম।পুলিশের বক্তব্য, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশেষ দল বুধবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। খবর ছিল, ওই এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে আমজাদ। পুলিশ পৌঁছতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আমজাদ প্রথমে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
তাঁর হাতে একটি ৯ এমএম কার্বাইন ছিল বলে জানা গিয়েছে। গুলির শব্দে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এর পর রাস্তার ধারের জঙ্গলে ঢুকে পড়ে সে।পুলিশ জঙ্গল ঘিরে ফেলে এবং আমজাদকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয় বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করে সে আবারও এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। দু’পক্ষের মধ্যে কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। পরে জঙ্গলের ভেতর থেকে আমজাদের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।এই সংঘর্ষে এক সাব-ইনস্পেক্টর এবং এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সুপার সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, আমজাদের বিরুদ্ধে খুন, তোলাবাজি, অপহরণ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল। উত্তরপ্রদেশ ছাড়াও দিল্লি, রাজস্থান এবং উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জেলায় তার অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিস্তার ছিল বলে দাবি পুলিশের। মোট ৪০টিরও বেশি মামলা তাঁর বিরুদ্ধে নথিভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ।ঘটনাস্থল থেকে একটি ৯ এমএম কার্বাইন, একটি পিস্তল এবং বেশ কিছু কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, বহুদিনের ত্রাসের অবসান হল এই অভিযানে।

