রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কেরলের কোঝিকোড়ের এরাঞ্জিপুরম এলাকার এক ট্রাফিক সিগনালে সম্প্রতি ঘটে গেছে নজরকাড়া একটি ঘটনা। ফুটপাত ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক বৃদ্ধা, যিনি যাতায়াতের নিয়ম মেনে চলতেন। ঠিক তখনই যানজট এড়াতে এক ব্যক্তি ফুটপাতের উপর দিয়ে স্কুটার চালাচ্ছিলেন। স্কুটার চালক বৃদ্ধার সামনে এসে দাঁড়ালে তিনি খেপে যান এবং প্রতিবাদ শুরু করেন।বৃদ্ধা দৃঢ়স্বরে বলেন, ‘‘ফুটপাত দিয়ে মানুষ হেঁটে যান। গাড়ি চালানোর জন্য রাস্তা রয়েছে। নিয়ম মেনে গাড়ি চালান।’’ তবে স্কুটার চালক তার কথার প্রতি কোনও গুরুত্ব দেননি। বৃদ্ধা তখন আরও তেজে বললেন, ‘‘আমার উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যান। দেখি কত সাহস! ছবি তুলব আমি আপনার।’’
বৃদ্ধার সাহসিকতা দেখে স্কুটার চালক বাধ্য হয়ে ফুটপাত থেকে গাড়ি নামিয়ে রাস্তায় চলে যান। তার এই উদাহরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে ‘এমএন’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করা ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, বৃদ্ধা কিভাবে সঠিক নিয়ম মেনে যান চলাচল নিশ্চিত করছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।মোটর ভেহিকল দফতরের তরফে শুক্রবার এই বৃদ্ধাকে সম্মান জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, একজন নাগরিক হিসাবে তিনি যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছেন। সমাজের অন্যান্য মানুষও বৃদ্ধার এই সাহসিকতা দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এক নেটাগরিক মন্তব্য করেছেন, ‘‘আজকাল পুরুষদের ঔদ্ধত্য দেখেও রাস্তাঘাটে অন্যায়ের প্রতিবাদ খুব কম মহিলাই করেন। প্রতিবাদ না করা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়ার সমতুল্য। বৃদ্ধা যে সৎ সাহস দেখিয়েছেন, তার জন্য কুর্নিশ।’’ঘটনাটি শুধুই আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। এটি শেখায় যে, রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে যাতায়াত নিরাপদ রাখা যায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখানো যেতে পারে।বৃদ্ধার এই সাহসিকতা সমাজে নাগরিক দায়িত্বের উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। নেটিজেনরা বলছেন, এমন উদাহরণ অন্যদেরও প্রেরণা জোগাবে। ফুটপাতে নিরাপদভাবে চলাচল করা সকলের অধিকার এবং সেটি রক্ষা করতে সচেতন হওয়াই মূল বার্তা।এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, সাধারণ নাগরিকও ছোট্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন নাগরিকের মূল দায়িত্ব। এরাঞ্জিপুরমের এই বৃদ্ধার উদাহরণ সেই দায়িত্বের প্রমাণ।

