রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতা পুরসভা ২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছে, যেখানে ঘাটতি কমিয়ে ১১১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। গত বছর ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাজেটে ঘাটতি ছিল ১১৪ কোটি টাকা। ভোটের আগে শহরে রাস্তা ও সাফাই খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে নাগরিকদের মন জিততে চাইছেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম।পুরসভার নতুন বাজেট অনুযায়ী শহরের রাস্তা ও সাফাই খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সবথেকে বেশি বরাদ্দ হয়েছে সাফাই খাতে। সড়ক খাতেও সর্বোচ্চ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বাজেটে সড়ক খাতে বরাদ্দ ছিল ৩২৫ কোটি ২ লক্ষ টাকা, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩৩৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
অর্থাৎ ৯ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জল সরবরাহ খাতেও বরাদ্দ ২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৪৫৬ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।বসতি উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ এবং শহরে দারিদ্র্য দূরীকরণেও জোর দেওয়া হয়েছে। কঠিন ও বর্জ্যখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৯০ কোটি ৩ লক্ষ টাকা, যা আগের বাজেটের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের অনুদানও বাড়ানো হয়েছে। গত অর্থবর্ষে সরকারি অনুদান ছিল ২,৬৭৭ কোটি টাকা, এবার তা ৩,১৩০ কোটি টাকা।পুরসভার অভ্যন্তরীণ আয়ের বড় উৎস সম্পত্তি কর। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে সম্পত্তি করদাতার সংখ্যা ছিল ৯,৮০০৩৩। চলতি অর্থবর্ষে ২০ হাজার সম্পত্তিকে আরও করের আওতায় আনা হয়েছে, যার ফলে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করদাতার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯,৯৯,৬৩১। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১,৬৭১ কোটি টাকা। নতুন অর্থবর্ষে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২,৬৬১.৪৩ কোটি টাকা।বাজেট পেশের পর মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের উন্নয়ন। যত টাকা আসে, তার বেশি খরচ করা হয় জনকল্যাণে। তবে অতিরিক্ত ৩৪৯ কোটি টাকা রেভিনিউ সাসপেন্স হিসেবে রাখা হয়েছে, যা কোনও খাতে ব্যবহার করা হয়নি।”এই বাজেটকে বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ ‘হাম্পটি ডাম্পটি বাজেট’ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। বামপন্থী কাউন্সিলর মধুছন্দা দেব বলেন, এটি জনমুখী নয়, বরং নির্বাচনমুখী বাজেট। তবে মেয়র হাকিমের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাজেটের মূল লক্ষ্য শহরের রাস্তা, সাফাই, সমাজকল্যাণ ও নাগরিক সুবিধা উন্নত করা।২০২৬-২০২৭ অর্থবর্ষের এই বাজেটের মাধ্যমে কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে নাগরিকদের সুবিধা ও নাগরিক কল্যাণে নজর দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে শহরের রাস্তা ও সাফাই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির মাধ্যমে আগের বাজেটের অভাব পূরণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

