Type Here to Get Search Results !

Stock Market : শুক্রবার সকালে রক্তাক্ত শেয়ার বাজার, ৫০০ পয়েন্টের বেশি নামল সেনসেক্স, নিফটি ২৫,৩৫০-এর নিচে

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সপ্তাহের শেষ লেনদেনের দিন শুক্রবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে এক ভয়াবহ ধস লক্ষ্য করা গেল, যা বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এদিন বাজার খোলার পর থেকেই সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই ছিল নিম্নমুখী, এবং সময়ের সাথে সাথে এই পতনের মাত্রা আরও তীব্র হয়। দিনের শুরুতেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রায় ৫০০ পয়েন্টেরও বেশি খুইয়ে এক ধাক্কায় অনেকটাই নিচে নেমে আসে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি সূচকটিও তার গুরুত্বপূর্ণ ২৫,৩৫০ পয়েন্টের স্তর ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং এর নিচে চলে যায়। 

বাজারের এই পরিস্থিতির কারণে লগ্নিকারীদের কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ এক নিমেষেই মুছে গিয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাজারের নেতিবাচক সংকেত এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব ভারতীয় বাজারে সরাসরি পড়েছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রির প্রবণতা বাজারের এই রক্তস্নান-এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন বাজারের লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই ব্যাংকিং, আইটি এবং অটোমোবাইল সেক্টরের শেয়ারগুলোতে ব্যাপক বিক্রির চাপ দেখা গিয়েছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, টিসিএস এবং এইচডিএফসি ব্যাংকের মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলো লাল সংকেতে লেনদেন করার ফলে সূচক পুনরুদ্ধারের কোনো সুযোগই পায়নি। মধ্যম ও ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারও এদিন বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, যার ফলে সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীরা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা এবং আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তাও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে। 

এশীয় বাজারের অন্যান্য সূচকগুলোর অবস্থাও এদিন সন্তোষজনক ছিল না, যার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় ইক্যুইটি মার্কেটে পরিলক্ষিত হয়েছে। শেয়ার বাজারের এই অস্থির পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, এখন আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি না করে বাজারের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সূচকের এই পতন আসলে বাজারকে সংশোধনের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো শেয়ার কম দামে কেনার সুযোগও তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত নিফটি যদি ২৫,৩০০-এর সাপোর্ট লেভেল ভেঙে আরও নিচে চলে যায়, তবে পতনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, শুক্রবারের সকালে ভারতীয় শেয়ার বাজারে যে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা আগামী কয়েক দিনের লেনদেনেও বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বাজারের এই টালমাটাল অবস্থার মধ্যেও কিছু নির্দিষ্ট সেক্টর যেমন ফার্মাসিউটিক্যালস বা এফএমসিজিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও, তা সামগ্রিক বাজারের পতন ঠেকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। বিনিয়োগকারীদের এখন নজর থাকবে বিশ্ব বাজারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সরকারি কোনো নীতিগত ঘোষণার দিকে, যা হয়তো ফের বাজারকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করতে পারে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad