রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শীতের আমেজ হোক বা বৃষ্টির বিকেল, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম হট চকোলেটের আমেজই আলাদা। ছোট থেকে বড় চকোলেটের এই উষ্ণ মায়ায় মজে থাকেন প্রায় সকলেই। কিন্তু ডায়েট বা স্বাস্থ্য সচেতনতার কথা মাথায় এলে অনেকেই এই পানীয়টি থেকে দূরে সরে দাঁড়ান। সাধারণ হট চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে চিনি, কনডেন্সড মিল্ক এবং ফুল ফ্যাট দুধের উপস্থিতি ক্যালোরির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা ওজন বাড়াতে এবং শরীরের অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তবে সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এমন কিছু বিকল্প পদ্ধতির কথা জানা গেছে, যার মাধ্যমে স্বাদে আপস না করেই বাড়িতে তৈরি করা সম্ভব পুষ্টিকর হট চকোলেট।
এই পানীয়টি যে কেবল মন ভালো করে তা নয়, বরং চকোলেটে থাকা উপাদান শরীরের এনডরফিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়িয়ে মানসিক প্রশান্তিও আনে। স্বাস্থ্যকর উপায়ে হট চকোলেট তৈরির মূল চাবিকাঠি হলো উপকরণের সঠিক নির্বাচন। সাধারণ গরুর দুধের বদলে এখানে কাঠবাদামের দুধ বা নারকেলের দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে, যা ল্যাকটোজ অ্যালার্জি বা ক্যালোরি কমানোর ক্ষেত্রে দারুণ কার্যকর। চিনির বিকল্প হিসেবে খেজুর বা সামান্য মধু ব্যবহার করলে প্রাকৃতিক মিষ্টতা পাওয়া যায়। যারা ডার্ক চকোলেট পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘ক্লাসিক হেলদি হট কোকো’ হতে পারে আদর্শ। এক কাপ কাঠবাদামের দুধে কয়েক টুকরো ডার্ক চকোলেট এবং নামমাত্র দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিলেই এটি তৈরি হয়ে যায়। শিশুদের জন্য ওট্স মিশ্রিত হট চকোলেট একটি চমৎকার পুষ্টিকর বিকল্প হতে পারে, কারণ ওট্স দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখে এবং ফাইবার প্রদান করে। লো-ফ্যাট দুধের সঙ্গে ওট্স পাউডার, কোকো পাউডার এবং মিষ্টির জন্য বীজহীন খেজুর ব্লেন্ড করে ফুটিয়ে নিলেই শিশুদের জন্য পুষ্টিকর পানীয় প্রস্তুত।
এছাড়াও যারা প্রোটিন সমৃদ্ধ পানীয় খুঁজছেন, তারা পিনাট বাটার হট চকোলেট ট্রাই করতে পারেন। কাঠবাদামের দুধের সঙ্গে এক চামচ পিনাট বাটার এবং কোকো পাউডার মিশিয়ে নিলে শরীরচর্চার পর এটি পেশির শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। আবার যারা দুধে অ্যালার্জি বা ভেগান ডায়েট অনুসরণ করেন, তারা নারকেলের দুধের সঙ্গে ভ্যানিলা এসেন্স ও ডার্ক চকোলেট মিশিয়ে সহজেই তৈরি করতে পারেন সুস্বাদু পানীয়। ডার্ক চকোলেটে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতেও সহায়তা করে। তাই এখন থেকে ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় বা ক্যালোরির দুশ্চিন্তা দূরে রেখে আপনিও অনায়াসে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন এই স্বাস্থ্যকর হট চকোলেট। এটি যেমন শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ, তেমনি বড়দের বিকেলের আড্ডায় বা রাতের ক্লান্তিতে দিতে পারে এক চিলতে প্রশান্তি। জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আর উপাদানের সঠিক সমন্বয় ঘটলে যেকোনো প্রিয় খাবারকেই যে স্বাস্থ্যকর করে তোলা যায়, হট চকোলেটের এই ভিন্নধর্মী রেসিপিগুলো তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

