রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কেবল একটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয়, বরং মানব সভ্যতার জন্য এক বিশাল পরিবর্তনের বার্তাবাহক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত এআই সংস্থা অ্যানথ্রোপিক-এর সিইও দারিয়ো আমোদেই এক চাঞ্চল্যকর সতর্কবার্তা দিয়েছেন, যা প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেরোধা-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথের একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, খুব শীঘ্রই বিশ্বের বুকে আছড়ে পড়তে চলেছে এক এআই সুনামি যার জন্য সাধারণ মানুষ বা বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা মোটেই প্রস্তুত নয়।
দারিয়োর মতে, কৃত্রিম মেধা এত দ্রুত মানুষের বুদ্ধিমত্তার স্তরে পৌঁছে যাচ্ছে যে, অদূর ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে তা সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। বিগত কয়েক বছর ধরে চাকরির বাজারে এআই-এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আশঙ্কা ও বিতর্ক চলছে। অনেক বিশেষজ্ঞই দাবি করেছেন যে, কৃত্রিম মেধার আগ্রাসী প্রসারের ফলে বিভিন্ন বড় বড় সংস্থা তাদের মানবসম্পদ কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে, যার ফলে সারা বিশ্বে বড় ধরনের কর্মীছাঁটাই এবং বেকারত্ব দেখা দিতে পারে। শিক্ষিত তরুণ সমাজের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে দারিয়ো আমোদেইয়ের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোডিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, গণিত এবং বিজ্ঞানের মতো উচ্চতর চিন্তাভাবনার ক্ষেত্রগুলোও এখন ক্রমশ কৃত্রিম মেধাকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। যদিও এআই মডেলগুলো জটিল সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজে পুরোপুরি দক্ষ হতে আরও কিছুটা সময় নিতে পারে, তবুও তারা অত্যন্ত দ্রুত সেই পথে এগিয়ে চলেছে। দারিয়ো আক্ষেপ করে বলেন যে, মানুষের দোরগোড়ায় এই পরিবর্তন চলে এলেও সমাজ বা রাষ্ট্র এই আসন্ন ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নয়।
তিনি একে একটি সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন যা দেখা যাচ্ছে কিন্তু মানুষ তার ভয়াবহতা বুঝতে পারছে না। তবে কেবল আশঙ্কার কথা শুনিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, বরং ভারতীয় তরুণ প্রজন্মের জন্য তিনটি বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, তিনি এআই-এর বিরোধিতা না করে বরং এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নতুন ক্যারিয়ার গড়ার কথা বলেছেন। দ্বিতীয়ত, এআই সংক্রান্ত সাপ্লাই-চেইন এবং এর সাথে যুক্ত ক্ষেত্রগুলো নিয়ে গভীরভাবে ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। এবং তৃতীয়ত, গঠনমূলক চিন্তাভাবনাকে এমন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বলেছেন যা এআই সহজে অনুকরণ করতে পারবে না। পরিশেষে, দারিয়ো মনে করেন যে, এআই-এর অর্থনৈতিক এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। যারা বিচক্ষণতার সঙ্গে কৃত্রিম মেধার এই বিশাল ঢেউয়ের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন এবং দক্ষতার উন্নয়ন করবেন, কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা বা সফল হওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে না। তবে সার্বিকভাবে এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আমাদের চেনা পৃথিবীটাকে আমূল বদলে দেবে, যার প্রস্তুতি এখনই নেওয়া জরুরি।

