Type Here to Get Search Results !

Sikkim Earthquake Panic : সিকিমে ঘনঘন কম্পন ও কলকাতায় রেশ, আতঙ্কে পাহাড় থেকে সমতল

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হিমালয়ের কোলে অবস্থিত ছোট্ট পাহাড়ি রাজ্য সিকিমে গত কয়েকদিন ধরেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুক্রবার ভোরে পশ্চিম সিকিমে ফের ৩.৭ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর ৪টা ১০ মিনিট নাগাদ এই কম্পন অনুভূত হয় এবং এর উৎসস্থল ছিল মাটির মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরেই শুক্রবার দুপুরে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রবল কম্পনে কেঁপে ওঠে, যার উৎসস্থল ছিল বাংলাদেশ। 

তবে ভূবিজ্ঞানীদের মতে, সিকিমে গত ২০ দিনে ৫০টিরও বেশি ছোট-বড় কম্পন এবং শুক্রবারের এই ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি বড় কোনো বিপর্যয়ের আগাম সংকেত বা ফোর শক হতে পারে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরে যখন পশ্চিম সিকিমের মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ৩.৭ হলেও উৎসস্থল অগভীর হওয়ায় কম্পনটি বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম সিকিমের গ্যালসিং ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে কেবল শুক্রবার নয়, গত বৃহস্পতিবারও সিকিমে চারটি পৃথক ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গিয়েছে, যার ফলে সেখানকার গাঙ্গ্যপ স্কুল ও গেরেথাং স্কুল-এর মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় নিউজ পোর্টালগুলি দাবি করেছে। বারবার এমন কম্পনের ফলে সাধারণ মানুষের মনে পাহাড় ধসের আতঙ্ক গ্রাস করছে। সিকিমের রাবাংলা থেকে দক্ষিণ দিকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকা এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলগুলি দার্জিলিং, কালিম্পং এবং শিলিগুড়িকেও বারবার আতঙ্কিত করে তুলছে। 

পাহাড়ের পর্যটকরাও এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাবে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা এই ঘনঘন ভূমিকম্পের প্রবণতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাদের মতে, ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই অঞ্চলে মাটির নিচে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে সিকিমে দফায় দফায় ৩.৭ থেকে ৪.৮ মাত্রার কম্পন হচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও টাকির কাছে শক্তিশালী কম্পনের ফলে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা দুলে উঠছে। ভূবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, এই ছোট ছোট ভূমিকম্পগুলি আসলে মাটির নিচের জমে থাকা শক্তি মোচনের প্রক্রিয়া, কিন্তু অন্য একাংশ আশঙ্কা করছেন যে এগুলি বড় কোনো ভূমিকম্পের পূর্বভাস হতে পারে। সিকিম প্রশাসন ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং বাসিন্দাদের সুরক্ষা বিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও এই ৩.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও বারবার কেঁপে ওঠা মাটি হিমালয়ের পাদদেশে থাকা মানুষের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের এই ভূমিকম্পের ধারাবাহিকতা ও তার কিছু সময় পরেই কলকাতার কম্পন সব মিলিয়ে গোটা বাংলা ও সিকিম জুড়ে এখন প্রকৃতির এই অনিশ্চয়তা নিয়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad