রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় রেলের টিকিট বুকিং পরিষেবায় আগামী ১ মার্চ থেকে বড়সড় রদবদল ঘটতে চলেছে, যা সাধারণ যাত্রী এবং নিত্যযাত্রীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং জনপ্রিয় ইউটিএস অ্যাপটি চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে এবং এর পরিবর্তে রেল নিয়ে আসছে তাদের নতুন সুপার অ্যাপ রেলওয়ান। ডিজিটাল ইন্ডিয়া উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত করতে এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল মন্ত্রক। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সাধারণ বা জেনারেল টিকিট, প্ল্যাটফর্ম টিকিট এবং সিজন টিকিট বুক করার জন্য আর আলাদা কোনো অ্যাপের প্রয়োজন হবে না বরং রেলওয়ান অ্যাপের মাধ্যমেই সংরক্ষিত এবং অসংরক্ষিত সমস্ত ধরণের টিকিট কাটা যাবে।
এই একক প্ল্যাটফর্মটি আইআরসিটিসি এবং ইউটিএস উভয় অ্যাপের কাজই একসাথে করবে, যার ফলে যাত্রীদের বারবার লগ-ইন করার ঝামেলা বা ফোনের মেমোরি খরচ করে একাধিক অ্যাপ রাখার প্রয়োজন পড়বে না। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে, ইউটিএস অ্যাপটি বন্ধ করার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই পুরনো অ্যাপের মাধ্যমে মান্থলি বা সেশন টিকিট রিনিউয়াল এবং নতুন ব্যবহারকারী রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্ল্যাটফর্ম টিকিট ও আর-ওয়ালেট টপ-আপ সুবিধাও সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে যাত্রীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, যদি কারোর ইউটিএস আর-ওয়ালেটে টাকা থেকে থাকে, তবে তা নষ্ট হবে না বরং রেলওয়ান অ্যাপে লগ-ইন করার সাথে সাথেই সেই টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অ্যাপে ট্রান্সফার হয়ে যাবে। যাত্রীরা তাঁদের বর্তমান ইউটিএস বা আইআরসিটিসি আইডি ব্যবহার করেই নতুন সুপার অ্যাপটিতে প্রবেশ করতে পারবেন। রেলওয়ান অ্যাপে টিকিটিং ছাড়াও আরও নানাবিধ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, যেমন ট্রেনের বর্তমান অবস্থান বা লাইভ স্ট্যাটাস জানা, পিএনআর স্ট্যাটাস চেক করা, খাবার অর্ডার দেওয়া এবং কোনো অভিযোগ থাকলে রেলমদদ পরিষেবার মাধ্যমে তা সরাসরি জানানো।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রেল ঘোষণা করেছে যে, এই অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট করে জেনারেল টিকিট কাটলে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এতে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড এবং নেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাশাপাশি কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ট্রেন কোন প্ল্যাটফর্মে আসবে বা কোন কামরা কোথায় দাঁড়াবে, সেই তথ্যও এখন হাতের মুঠোয় চলে আসবে এই নতুন প্রযুক্তির কল্যাণে। তবে ১ মার্চ থেকে টিকিট কাউন্টারে লাইন দেওয়ার চিরচেনা ভিড় কমাতে অনলাইন টিকিটিংয়ের ওপর বেশি জোর দেওয়া হলেও যারা পুরনো প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত, তাঁদের দ্রুত নতুন এই রেলওয়ান অ্যাপে অভ্যস্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম তৈরি করা, যেখানে ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে যাত্রা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও পরিষেবা একই ছাতার নিচে পাওয়া যায়, যা ভারতীয় রেলের আধুনিকায়নের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

