রাতদিন ওয়েবডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুপ্রবেশের ইস্যুটিকে পুনরায় সামনে এনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, যা আগামী নির্বাচনগুলোর আগে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। একটি জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, যদি ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে, তবে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হবে। শাহের মতে, রাজ্যের বর্তমান শাসক দল ভোটব্যাংকের রাজনীতির স্বার্থে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে, যা শুধুমাত্র রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে না, বরং সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোর জনতাত্ত্বিক কাঠামোকেও বদলে দিচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, অনুপ্রবেশের ফলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং সুরক্ষায় টান পড়ছে, যা দমনে কেন্দ্রীয় সরকার বদ্ধপরিকর হলেও রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে তা পূর্ণতা পাচ্ছে না। শাহ তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে বিজেপি সরকার কোনো আপস করবে না এবং ক্ষমতায় আসা মাত্রই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তোষণের রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে যুব সমাজ আজ দিশেহারা, এবং এই অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ হলো সরকার পরিবর্তন। অমিত শাহের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, যেখানে বিরোধী দলগুলো এটিকে মেরুকরণের রাজনীতি বলে আখ্যা দিলেও বিজেপি কর্মীরা এটিকে রাজ্যের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সিএএ এবং এনআরসি সংক্রান্ত বিষয়গুলো শুধুমাত্র আইনি বিষয় নয়, বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। শাহের কথায় উঠে আসে যে, সীমান্তের ওপার থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের কারণে রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো কাজ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আহ্বান জানান যে, একটি অনুপ্রবেশকারী-মুক্ত এবং উন্নত বাংলা গড়তে তারা যেন বিজেপিকে সমর্থন করেন। ভাষণের শেষে তিনি এই বিষয়েও আশ্বস্ত করেন যে, যারা ভারতের বৈধ নাগরিক তাদের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই, তবে যারা অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে প্রবেশ করেছে তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। শাহের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন দিনগুলোতে অনুপ্রবেশ ইস্যুটি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে চলেছে এবং বিজেপি এই জাতীয়তাবাদী ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করবে, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যেই পাল্টা প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

