রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দেশের মধ্যে প্রথম নদীর তলা দিয়ে মেট্রো ছুটেছে এই শহরেই। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে গঙ্গার তলা দিয়ে ছুটছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। আর এবার জলপথকে আরও আধুনিক ও গতিময় করতে গঙ্গাবক্ষে ‘ওয়াটার মেট্রো’ চালুর পরিকল্পনা রাজ্যের। ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে প্রাথমিক সবুজ সংকেত মিলেছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভায় এ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা।সূত্রের খবর, কেরলের কচি শহরের আদলে গড়ে তোলা হতে পারে কলকাতার জলমেট্রো প্রকল্প। সেখানে চালু থাকা কচি ওয়াটার মেট্রো হল দেশের প্রথম এবং এশিয়ার বৃহত্তম সমন্বিত ফেরিভিত্তিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা। এটি কোচি শহরের ১০টি দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। অত্যাধুনিক ব্যাটারি-চালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড নৌযানে পরিবেশবান্ধব ও দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ মিলছে সেখানে।
সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই নৌযানগুলি ব্যাটারি ও ডিজেল জেনারেটর দুই প্রযুক্তির সমন্বয়ে চলে।রাজ্যের পরিকল্পনা, গঙ্গাবক্ষে তেমনই ব্যাটারি-চালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড নৌযান নামানো। এগুলি হবে দূষণমুক্ত, শব্দহীন এবং দ্রুতগতির। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি কমবে, অন্যদিকে শহরের যানজটও অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। বিশেষ করে গঙ্গার দুই পারে বসবাসকারী মানুষের জন্য এটি হতে পারে দ্রুত যোগাযোগের নতুন দিশা।নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে কোচির ওয়াটার মেট্রোর এক প্রতিনিধি দল উপস্থিত থাকবে। তারা গোটা প্রকল্প কীভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, কী ধরনের নৌযান ব্যবহার করা হচ্ছে, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কত সে বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করবে। একই সঙ্গে রাজ্যের তরফেও সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরা হবে। কী ধরনের নৌযান তৈরি হবে, সম্ভাব্য রুট কী হতে পারে, ব্যয়ের পরিমাণ কত সবই আলোচনায় উঠবে।শুধু ওয়াটার মেট্রো নয়, ইতিমধ্যেই গঙ্গাপারকে আধুনিক রূপ দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৫০টি জেটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা ব্যয়ে নামছে ১৩টি বৈদ্যুতিক জলযান।
তার পাশাপাশি আরও ২২টি নতুন জলযান তৈরি করা হয়েছে, যেগুলি খুব শীঘ্রই গঙ্গায় নামবে। বিভিন্ন ঘাটে বসানো হয়েছে স্মার্ট কার্ড প্রবেশদ্বার। ফলে আগামী দিনে জলপরিবহণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য।তবে এখনও প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, “এই মুহূর্তে পরিকল্পনা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে। আগামী সপ্তাহের বৈঠকের পর বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হবে। এখনই বিশদে কিছু বলার সময় আসেনি।” যদিও অর্থ দপ্তরের প্রাথমিক ছাড়পত্র মিলেছে বলে জানা গিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোচির আদলে সুষ্ঠুভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা যায়, তবে কলকাতায় জলপথভিত্তিক গণপরিবহণ এক নতুন মাত্রা পাবে। সড়কপথের চাপ কমবে, দূষণ কমবে, আর শহর পাবে আধুনিক ও টেকসই পরিবহণ ব্যবস্থা।এখন নজর আগামী সপ্তাহের বৈঠকের দিকে। সেখানেই ঠিক হবে গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার মেট্রোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা। সবুজ সংকেত মিলেছে, এবার বাস্তবায়নের পালা।
