রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কলকাতায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত, আতঙ্ক শহর জুড়ে,পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আজ দুপুরে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল। ভারত ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই কম্পন টের পাওয়া যায়। দুপুর প্রায় ১টা ২২ মিনিট নাগাদ আচমকাই কেঁপে ওঠে মাটি। কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় যেমন সল্টলেক, নিউ টাউন, গড়িয়া, টালিগঞ্জ, শ্যামবাজার, হাওড়া সংলগ্ন বহু জায়গায় মানুষ কম্পন অনুভব করেন।
বহু বাসিন্দা জানান, প্রথমে হালকা দুলুনি অনুভূত হলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা কিছুটা জোরালো হয়। প্রায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এই কম্পন। উচ্চ বহুতল আবাসন ও অফিস ভবনগুলিতে কম্পন বেশি টের পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন অনেকে। আতঙ্কে বহু মানুষ তড়িঘড়ি সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসেন। বিভিন্ন স্কুল ও বেসরকারি অফিসে কিছুক্ষণের জন্য কাজ বন্ধ রাখা হয়। তবে এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি। দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনও ভবনে ফাটল, বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা বা গ্যাস লিকের মতো পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দফতরে খবর দিতে বলা হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল যেহেতু বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি, তাই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলি যেমন উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত বড় ধরণের ধ্বংস ডেকে আনে না, তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করছেন। কেউ লিখেছেন, “হঠাৎ করে দরজা-জানলা কাঁপতে শুরু করে,” আবার কেউ জানিয়েছেন, “বিছানা ও আলমারি দুলতে থাকে কয়েক সেকেন্ড।” অনেকেই প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে খবর দেখে নিশ্চিত হন যে এটি ভূমিকম্প ছিল। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত আফটারশকের কোনও খবর নেই। তবে ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে হালকা কম্পন অনুভূত হতে পারে, তাই অযথা গুজবে কান না দিয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময় মাথা ঠান্ডা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের ভিতরে থাকলে মজবুত টেবিল বা আসবাবের নীচে আশ্রয় নেওয়া উচিত এবং লিফট ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে থাকলে খোলা জায়গায় সরে যাওয়াই নিরাপদ। এই মুহূর্তে কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যান চলাচল ও পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চলছে। প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং পরবর্তী আপডেটের জন্য নাগরিকদের সরকারি সূত্রের দিকে নজর রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

