রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটবে এমনই চাঞ্চল্যকর হুমকি ইমেল ঘিরে তীব্র আতঙ্ক ছড়াল কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক পোস্ট ও পাসপোর্ট অফিসে। ইমেলে দাবি করা হয়, অফিস চত্বরে আরডিএক্সের সঙ্গে সায়ানাইড রাখা আছে। হুমকি পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি খালি করে দেওয়া হয় অফিসগুলি। কর্মী ও পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলে। শুরু হয়েছে তল্লাশি।সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পোস্ট অফিস ও পাসপোর্ট অফিসে এই হুমকি ইমেল পৌঁছয়। উত্তরের রায়গঞ্জ ও বালুরঘাট থেকে শুরু করে পশ্চিমের কাঁথি, নদিয়া, কাটোয়া, হাওড়া, আসানসোল, কোচবিহার একাধিক জায়গায় একই ধরনের বার্তা আসে। কলকাতাতেও রেহাই মেলেনি।
লালবাজারের পিছনে অবস্থিত পাসপোর্টের আঞ্চলিক অফিসে হুমকি ইমেল পৌঁছয়। ব্যারাকপুর প্রধান পোস্ট অফিসেও ছড়িয়ে পড়ে বোমাতঙ্ক।ইমেলে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। পাশাপাশি সায়ানাইড ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়। ফলে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সঙ্গে সঙ্গে ভবন খালি করার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। পরিষেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও দমকল বাহিনীকেও সতর্ক রাখা হয়। অফিস চত্বরে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি কক্ষ, করিডর, সংরক্ষণাগার ও সন্দেহজনক বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। এক কর্মী জানান, “হঠাৎ এমন ইমেল পাওয়ার পর আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। নিরাপত্তার স্বার্থেই দ্রুত ভবন খালি করা হয়।”উল্লেখ্য, এর আগেও রাজ্যের একাধিক আদালতে একই ধরনের হুমকি ইমেল আসে। সেবারও আরডিএক্স রাখা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল।
পুলিশ ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল তল্লাশি চালালেও কিছুই মেলেনি। তবুও প্রশাসন বিষয়টিকে হালকাভাবে নিচ্ছে না।আগের ঘটনার পর কলকাতার নগরপাল সুপ্রতিম সরকার, রাজ্য পুলিশের মহাপরিদর্শক পীয়ূষ পাণ্ডে এবং মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-র নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ জানায়, বিচারপতি থেকে সাধারণ মানুষ— সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পোস্ট ও পাসপোর্ট অফিসে নতুন করে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় প্রশাসন আরও সতর্ক হয়েছে। হুমকি ইমেলের উৎস খুঁজে বের করতে সাইবার শাখা তদন্ত শুরু করেছে। কোথা থেকে এবং কারা এই বার্তা পাঠাচ্ছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও বিস্ফোরক মেলেনি বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ। একের পর এক হুমকি ইমেলে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আতঙ্কের আবহে আপাতত কড়া নজরদারিতেই চলছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান।
