রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আদিবাসীদের উত্তরকন্যা অভিযানকে ঘিরে বৃহস্পতিবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিলিগুড়ি। সুপরিকল্পিত ভাবে আন্দোলনের নামে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ শাসকদলের। বিজেপির পাল্টা দাবি, আদিবাসী জনজাতির উপর আক্রমণের প্রতিবাদেই তাদের এই কর্মসূচি। তবে মিছিল ঘিরে সংঘর্ষ, জলকামান, কাঁদানে গ্যাস সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় চত্বর।ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর। শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফাঁসিদেওয়া ব্লকের জালাস নিজামতারা গ্রাম পঞ্চায়েতে এক গর্ভবতী আদিবাসী মহিলার উপর হামলার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলে স্থানীয় জনজাতি সমাজ। পরে ৭ জানুয়ারি ওই মহিলা এক নবজাতকের জন্ম দেন। কিন্তু জন্মের কিছুদিন পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে আদিবাসী সমাজের একাংশের মধ্যে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার জলপাইমোড় থেকে নৌকাঘাট মোড় হয়ে মিছিল করে তিনবাত্তি মোড়ের দিকে এগোতে থাকে আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগে থেকেই বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। নামানো হয় র্যাফ, প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান।মিছিল তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছাতেই পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যায়। অভিযোগ, ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। তারপরই উত্তেজনা চরমে ওঠে। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের একাংশ তাদের লক্ষ্য করে জলের বোতল ও পাথর ছুড়তে শুরু করে। এমনকি রাস্তায় টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে জলকামান চালায় পুলিশ। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয়। ঘটনায় প্রায় আট থেকে দশজন আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।এই মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায় ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দূর্গা মুর্মু এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়িকা শিখা চট্টোপাধ্যায়-কে।
অভিযোগ, এদিন বিধায়ক দূর্গা মুর্মু নিজে তির-ধনুক হাতে মিছিলে হাঁটেন। অনেক আন্দোলনকারীর হাতেও তির-ধনুক ও তলোয়ার দেখা যায়।দূর্গা মুর্মু বলেন, “আমি একজন আদিবাসী বিধায়ক। জমি দখলকে কেন্দ্র করে যেভাবে এক গর্ভবতী আদিবাসী মহিলার উপর আক্রমণ হয়েছে, আমরা তার প্রতিবাদ করছি। নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে, অথচ পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি।” শিখা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “ঘটনার দোষীরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা চাই দোষীদের চরম শাস্তি হোক।”অন্যদিকে এই হিংসাত্মক পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা করেছেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। তিনি বলেন, “আন্দোলনের নামে হিংসা ছড়ানো হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও পাথর ছোঁড়া হয়েছে। আদিবাসীদের জন্য সরকার বহু কাজ করেছে। ভুল বুঝিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছে।” জমি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।ঘণ্টাখানেকের চেষ্টায় আন্দোলনকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। উত্তরকন্যা অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক তরজা এখন তুঙ্গে।
