রাতদিন ওয়েবডেস্ক : সামনেই রঙের উৎসব। দোল ও হোলিকে ঘিরে লম্বা ছুটির আবহে ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। আর সেই ভিড়ের আড়ালেই সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে চোরা শিকারিরা এমন আশঙ্কায় বাড়তি সতর্ক বন দপ্তর। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবে গরুমারা ও চাপরামারির জঙ্গলে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছেন বনকর্মীরা। শুরু হয়েছে জোরদার টহলদারি, এমনকি ড্রোনের সাহায্যেও নজরদারি চলছে বলে জানা গিয়েছে।ডুয়ার্সের বন্যপ্রাণী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত গরুমারা জাতীয় উদ্যান এবং সংলগ্ন চাপরামারি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য-এ বছরের এই সময়টা বিশেষভাবে স্পর্শকাতর বলে মনে করছেন বন আধিকারিকরা। দোল পূর্ণিমার উজ্জ্বল আলোয় জঙ্গলে দৃশ্যমানতা অনেকটাই বেড়ে যায়।
উৎসবের নামে জঙ্গলে ঢুকে পশু শিকারের প্রবণতা দেখা যেত। যদিও বন দপ্তরের দীর্ঘদিনের সচেতনতা প্রচার, গ্রামবাসীদের নিয়ে সচেতনতামূলক শিবির এবং কঠোর নজরদারির ফলে এখন সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। তবুও কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ বন দপ্তর।উত্তরবঙ্গ বন্যপ্রাণী বিভাগের মুখ্য বনপাল ভাষ্কর জেভি জানান, “প্রতিটি সংরক্ষিত জঙ্গলেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু দোল বা হোলির দিন নয়, উৎসবের পরবর্তী সাতদিনও জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকায় কড়া নজরদারি চলবে।”গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের দক্ষিণ রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ অফিসার ধ্রুবজ্যোতি বিশ্বাস বলেন, “দোল ও হোলিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও টহলদারি চলছে। মুন লাইট পেট্রোলিং চালু থাকবে। কোনওভাবেই যাতে শিকারিরা সুযোগ না পায়, সে দিকেই আমাদের নজর।”পর্যটকদের ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সাফারি রুট ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া যাবে না। রাতের বেলায় জঙ্গলের সংলগ্ন এলাকায় অযথা ঘোরাফেরা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে যাতে জঙ্গলের প্রাণ হারিয়ে না যায়, সে দিকেই কড়া নজর বন দপ্তরের। দোলের আবহে তাই এবার ডুয়ার্সের জঙ্গলে রঙের পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতার ছাপ স্পষ্ট।
