Type Here to Get Search Results !

Arvind Kejriwal : সত্যের জয়, আবগারি মামলা থেকে সসম্মানে রেহাই পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কেজরীওয়াল

রাতদিন ওয়েবডেস্ক : দিল্লির আবগারি দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর নাটকীয় মোড় নিয়ে দিল্লির বিশেষ আদালত থেকে সসম্মানে অব্যাহতি পেলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসৌদিয়া। শুক্রবার দিল্লির আদালত এই রায় ঘোষণা করার সময় জানায় যে, সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে পেশ করা চার্জশিটে মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো তথ্যপ্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। কেবল কেজরীওয়াল বা সিসৌদিয়া নন, এই মামলার অভিযোগ থেকে আম আদমি পার্টির আরও ২১ জন নেতা ও কর্মীকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। 

দীর্ঘ কারাবাস ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এমন রায় শোনার পরপরই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আদালত চত্বরে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অরবিন্দ কেজরীওয়াল কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং গলার স্বর বুজে আসে তাঁর। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে বিজেপি সরকার তাঁদের ওপর একের পর এক মিথ্যা দোষ চাপাচ্ছিল এবং চব্বিশ ঘণ্টা টিভি চ্যানেলে তাঁদের দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভ্রষ্ট বলে প্রচার করা হচ্ছিল। কেজরীওয়ালের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে আপ-এর শীর্ষ নেতাদের নিশানা করে এই ষড়যন্ত্র সাজানো হয়েছিল এবং তাঁদের ঘর থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল। বিশেষ করে মনীশ সিসৌদিয়াকে বিনা অপরাধে দুবছর জেলে পচতে হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 

আদালত সিবিআইয়ের অভিযোগ খারিজ করে দেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে কেজরীওয়াল আরও বলেন যে, সত্যের জয় হয়েছে এবং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর যে অগাধ আস্থা ছিল, আজ তা প্রমাণিত হলো। তিনি বিজেপিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, সংবিধান নিয়ে ছিনিমিনি না খেলে যদি কুর্সি দখল করতে হয় তবে তা ভাল কাজ করে অর্জন করা উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে যে কাদা ছোড়াছুড়ি চলেছিল, আদালতের এই আদেশের ফলে তাতে দাঁড়ি পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিচারকের দেওয়া এই ন্যায়বিচারকে স্বাগত জানিয়ে কেজরীওয়াল এবং সিসৌদিয়া দুজনেই দাবি করেন যে, আম আদমি পার্টি সবসময়ই স্বচ্ছতার নীতিতে বিশ্বাসী এবং এই রায় তাঁদের সততার বড় প্রমাণ। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে একদিকে আম আদমি পার্টি এই জয়কে উদযাপন করছে, অন্যদিকে সিবিআইয়ের তদন্ত পদ্ধতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ দিল্লির রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়। 

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad