Type Here to Get Search Results !

Fatal Collision : কোচবিহারে বাইক-লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত বিজেপি নেতা-সহ ২ যুবক

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বৃহস্পতিবার সকালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল কোচবিহার। বাইক ও লরির মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত্যু হল দুই যুবকের। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। মৃতদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘাতক লরিটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে চালক ও খালাসিকেও। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহার জুড়ে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যুবকের নাম গৌর সাহা ও প্রণব দে। দু’জনেরই বয়স মাত্র ২৫ বছর। গৌর সাহা কোচবিহার জেলা বিজেপির তথ্যপ্রযুক্তি সেলের সহ-আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি কোচবিহার শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। অন্যদিকে প্রণব দে কোচবিহার ১ নম্বর ব্লকের কালীঘাট রোড এলাকার বাসিন্দা।

 দুই যুবকের অকালমৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিত মহলে নেমে এসেছে গভীর শোক।জানা গিয়েছে, গৌর ও প্রণব পেশায় আলোকচিত্রী ছিলেন। বুধবার রাতে একটি বিয়েবাড়িতে ছবি তোলার কাজ সেরে বাইকে করে কোচবিহারে ফিরছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার ভোর নাগাদ মাথাভাঙার দিক থেকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি লরির সঙ্গে তাঁদের বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দু’জনই রাস্তায় ছিটকে পড়েন।প্রচণ্ড শব্দ শুনে আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এক যুবকের। অপরজনকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কোচবিহার মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরিটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে চালক ও খালাসিকে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, লরিটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছিল। তবে অতিরিক্ত গতি, অসাবধানতা নাকি অন্য কোনও কারণ সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিকে গৌর সাহার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব শোকপ্রকাশ করেছে। সহকর্মীদের দাবি, গৌর অত্যন্ত সক্রিয় ও পরিচিত মুখ ছিলেন সংগঠনের মধ্যে। তাঁর অকালপ্রয়াণে বড় শূন্যতা তৈরি হল বলে জানিয়েছেন দলের এক নেতা।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই যুবকই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ফটোগ্রাফির কাজ করেই উপার্জন করতেন। বুধবার রাতেও কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার তাড়াতেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তাঁরা।ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়রা দ্রুতগতির ভারী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোরবেলায় অনেক সময় লরি ও ট্রাক অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে, যার জেরেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে।পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি আটক চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।একটি আনন্দঘন কাজের শেষে বাড়ি ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক পরিণতি— কোচবিহারের এই দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলল সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে। দুই তরতাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ায় স্তব্ধ পরিবার, স্তব্ধ শহর।

Tags

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad