রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুচর্চিত আর্থিক অনিয়ম মামলায় নতুন মোড় নিল। হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট আখতার আলির বিরুদ্ধে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জগঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের পেশ করা অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটের ভিত্তিতে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই চার্জগঠনের দিন ধার্য করেছে। আলিপুর আদালত সূত্রে খবর, আখতার আলির পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী শশীকান্ত চন্দকের বিরুদ্ধেও ওই একই দিনে চার্জগঠন করা হবে। সিবিআই তাদের তদন্তে দাবি করেছে যে, আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং আখতার আলি প্রথম দিকে এই দুর্নীতির চক্রে একে অপরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলায় সন্দীপ ঘোষ সহ বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা, আফসার আলি খান এবং আশিস পাণ্ডের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের প্রক্রিয়াও ইতিপূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিবিআই আদালতের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছে যে, এই দুর্নীতি মামলার মূল পর্যায়ের তদন্ত আপাতত শেষ হয়েছে। তবে তদন্তের পথ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এখন ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনে তদন্ত আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা আদালতকে জানিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দুর্নীতির পাহাড় প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন স্বয়ং আখতার আলিই। ২০২৩ সালে তিনি রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনের কাছে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু সিবিআই তদন্তভার গ্রহণ করার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং গোয়েন্দারা দাবি করেন যে অভিযোগকারী আখতার নিজেও এই দুর্নীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তদন্তের খাতিরে তাঁকে বারবার সমন পাঠানো হলেও তিনি অসুস্থতার দোহাই দিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন এবং হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু উচ্চ আদালত তাঁর রক্ষাকবচের আর্জি খারিজ করে দেওয়ার পর গত ৬ ফেব্রুয়ারি আলিপুর আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। শেষ পর্যন্ত গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন এবং বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। ২৫ তারিখের চার্জগঠনের মাধ্যমে এই হাই-প্রোফাইল মামলার বিচার প্রক্রিয়া এক নতুন ধাপে পৌঁছাতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
