রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কয়লা সিন্ডিকেটের জটিল ঘটনার নতুন মোড় ধরেছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ইডি শুক্রবার ধৃত চিন্ময় মণ্ডলকে আরও পাঁচ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে। একই সঙ্গে চিন্ময়ের ভাগ্নে কিরণ খাঁকেও বিচারবিভাগীয় হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। কিরণের বাড়ি আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার রানিগঞ্জের বক্তারনগর এলাকায়।ইডি সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে তল্লাশির সময় কিরণ নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। ওই মোবাইল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তদন্তকারীরা হেফাজতের নতুন আবেদন করতে পারেন।
এ ঘটনায় আগে থেকেই দুর্গাপুর ও আসানসোলে ৪৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে।ইডির দাবি, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে একটি ‘ইন্টারলিঙ্কড সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছিল, যা খনি থেকে অবৈধভাবে কয়লা পরিবহণ করত। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম অভিযুক্ত চিন্ময় ও কিরণ। মামা-ভাগ্নের এই জুটিই অবৈধ কয়লা ব্যবসার মূল কাকদণ্ড ধরে রেখেছিল। জানা যায়, চিন্ময়ের সঙ্গে পাঁচ জন মিলিত হয়ে শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় এই সিন্ডিকেটকে ‘বাদশা’ বলে ডাকতেন। সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে বর্তমানে চিন্ময়ের ভাগ্নে কিরণ দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রায় ১৫ বছর ধরে চলছে।ইডি তদন্তে হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাট থেকে প্রতি মেট্রিকটন কয়লার ‘রেট চার্ট’ পাওয়া গেছে। প্রতিটি টন কয়লায় তোলাবাজি চলত, যা কালোটাকাকে ‘দানের টাকা’ হিসেবে দেখানো হতো।
এই দুর্নীতির মাধ্যমে কত সম্পদ অর্জন করা হয়েছে এবং তা অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে।কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, বাম আমলে কিরণ-মহলের অবৈধ কয়লা ব্যবসার হাতেখড়ি হয়েছিল। এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ইডি তল্লাশির মাধ্যমে বিষয়টি নতুন আলোচনায় এসেছে।মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি। ইডি ও অন্যান্য তদন্ত সংস্থা তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবে এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তির সম্পূর্ণ হিসাব-নিকাশ বের করার চেষ্টা করবে।এই ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক মহলও চুপ থাকছে না। কবে ও কীভাবে সিন্ডিকেটের সম্পূর্ণ চক্র ভাঙা যাবে, তা এখন আগ্রহের কেন্দ্রে রইল।

