রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশে নতুন ভোরের প্রতীক্ষা, ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ। দীর্ঘ অস্থিরতা ও রাজনৈতিক টানাপোড়ন কাটিয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনায় আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে শামিল হয়েছে বাংলাদেশ। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রায় দুবছর পর এবং ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে দেশটির প্রায় ১২ কোটি ৭০ লক্ষ নিবন্ধিত ভোটার। আজ সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা কোনো বিরতি ছাড়াই চলবে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। একই দিনে জাতীয় সনদ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।
এই নির্বাচনকে পর্যবেক্ষকরা জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মের বিপ্লব-পরবর্তী প্রথম নির্বাচন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সকাল সকাল ঢাকার গুলশান মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে সস্ত্রীক ভোট দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। নির্বাচনের মূল লড়াই মূলত দ্বিমুখী একদিকে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং অন্যদিকে জামায়াত-ই-ইসলামী ও জুলাই বিপ্লবের ছাত্র-তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ ১১টি দলের জোট। ২৯৯টি আসনে মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আজ বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকেই শুরু হবে ভোটগণনা এবং আগামী কাল অর্থাৎ ১৩ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে। জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশটিতে শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। দেশের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, এই ভোটের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক পরিবেশের অবসান ঘটবে এবং বাংলাদেশে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে পারেন। সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের লড়াই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের এক অগ্নিপরীক্ষা।

