রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আর মাস খানেকের মধ্যেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে জোর জল্পনা। তার আগেই প্রস্তুতির নিরিখে অনেকটা এগিয়ে শাসক শিবির। রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, ২৯৪টি আসনের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রার্থী বাছাই প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস । দীর্ঘ সাংগঠনিক সমীক্ষা, রিপোর্ট এবং জেলাভিত্তিক ফিডব্যাকের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে খসড়া তালিকা। এখন শুধু শীর্ষ নেতৃত্বের সিলমোহরের অপেক্ষা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীরা যেখানে এখনও জোট ও আসন সমঝোতার অঙ্কে জড়িয়ে, সেখানে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে তৃণমূল। বিজেপি সাংগঠনিক পুনর্গঠনে ব্যস্ত, অন্যদিকে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোটে আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। সেই প্রেক্ষাপটে প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলা শাসকদলের কৌশলগত এগিয়ে থাকা বলেই মনে করা হচ্ছে।সূত্রের খবর, অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে তালিকা সাজানো হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক ও মন্ত্রীদের বড় অংশই ফের টিকিট পাচ্ছেন। পাশাপাশি কয়েকজন নতুন মুখকেও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এক রাজ্যসভার সাংসদের নামও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে বলে দলীয় মহলে গুঞ্জন।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী । প্রার্থী বাছাইয়ে জোর দেওয়া হয়েছে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা, সংগঠনের শক্তি এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সক্ষমতার উপর।কলকাতা জেলায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে আবারও লড়তে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাসবিহারী, কলকাতা বন্দর, টালিগঞ্জ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর্তমান মুখদের উপর ভরসা রাখছে দল। তবে বালিগঞ্জ ও বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। উত্তর কলকাতাতেও সীমিত বদল হতে পারে।উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনের অধিকাংশেই বর্তমান বিধায়করা ফের সুযোগ পাচ্ছেন বলে খবর।
তবে বারাসতে তিনবারের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী আর লড়তে না চাইলে সেখানে নতুন মুখ আনা হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাদবপুর, সোনারপুর, বারুইপুরে পরীক্ষিত মুখরাই এগিয়ে। ভাঙড়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে দল, কারণ গতবার এই আসন হাতছাড়া হয়েছিল।পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে ঘিরে বিশেষ কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলনেতার আসনে শক্তিশালী ও স্থানীয় প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। রামনগর, হলদিয়া, চণ্ডীপুর কয়েকটি আসনে বদলের সম্ভাবনা থাকলেও বড় চমক সীমিতই থাকবে বলে ইঙ্গিত।হাওড়া ও হুগলিতে অধিকাংশ বর্তমান প্রার্থীই টিকিট পেতে চলেছেন। কিছু তরুণ মুখকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। উত্তরবঙ্গে প্রার্থী নির্বাচন হয়েছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। রাজবংশী ভোট, চা বলয় ও পাহাড়ি রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখে তালিকা তৈরি হয়েছে বলে খবর।সব মিলিয়ে ভোট ঘোষণার আগেই সংগঠনকে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রাখতে চাইছে তৃণমূল। নজর এখন একটাই কারা বাদ পড়লেন, কারা নতুন মুখ হিসেবে উঠে এলেন এবং শেষ মুহূর্তে কোনও চমক থাকে কি না। অন্যদিকে বিরোধীরা এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি অধিকাংশ আসনে। সেই তুলনায় কয়েক কদম এগিয়েই ভোটযুদ্ধে নামতে প্রস্তুত শাসক শিবির।

