রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকস্তরে পাস-ফেল পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তন এনে পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত ফেল পদ্ধতি তুলে দিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে, তিনটি কিংবা তার বেশি পেপারে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী সেমেস্টারে উঠতে পারত না শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এখন থেকে পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত সবাই পরবর্তী সেমেস্টারে উঠতে পারবে, এমনই নিয়ম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের আন্দোলনের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেমে পাস-ফেল পদ্ধতি চালু থাকার সময় পঞ্চম সেমিস্টার পর্যন্ত ফেল অটোমেটিক পরবর্তী সেমেস্টারে উঠে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ২০২৩ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি চালুর পর সেই নিয়ম পরিবর্তন হয়েছিল। কিন্তু এখন আবার আগের নিয়মে ফিরে যাওয়া হল।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কাউন্সিলের সেক্রেটারি দেবকুমার বিশ্বাস এনিয়ে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।
তাতে বলা হয়েছে, পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত ‘অটোমেটিক প্রোগ্রেশন’ অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী সেমেস্টারে পৌঁছানো যাবে। কোনও সেমেস্টারে আটকে থাকার নিয়ম থাকছে না।এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ড্রপ আউটের হার কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, আগে তিনটি কিংবা তার বেশি পেপারে পাশ মার্কস না পেলে পরবর্তী সেমেস্টারে ওঠা যেত না। এর ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী ড্রপ আউট হয়ে যেত। কিন্তু এখন থেকে পঞ্চম সেমেস্টার পর্যন্ত সবাই পরবর্তী সেমেস্টারে উঠতে পারবে।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। তারা বলেছে, ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে তারা।তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার মান কমবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই বলছেন, পাস-ফেল পদ্ধতি শিথিল করলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অবহেলা করবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সেমেস্টারে উঠতে পারবে এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি উদাহরণ হতে পারে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যাতে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা হয়।

