রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিশ্বজুড়ে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা জারি করল গুগল। সংস্থার সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড ফোনের প্রায় ৪০ শতাংশই গুরুতর সাইবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পুরনো সফটওয়্যার ব্যবহার করার কারণেই এই বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।গুগলের রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে এমন সফটওয়্যার চলছে, যেগুলিতে আর কোনও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা প্যাচ দেওয়া হয় না।
ফলে এই ফোনগুলি খুব সহজেই ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য সাইবার আক্রমণের শিকার হতে পারে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিভাইস হ্যাকারদের কাছে সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য।উল্লেখ্য, গত বছর থেকেই গুগল আনুষ্ঠানিক ভাবে অ্যান্ড্রয়েড ১২ এবং তার আগের সংস্করণগুলির জন্য নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। নয়া পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে সক্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের মাত্র ৫৮ শতাংশে অ্যান্ড্রয়েড ১৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছে। সবচেয়ে নতুন সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ১৬ এখনও পর্যন্ত মাত্র ৭.৫ শতাংশ ফোনে পৌঁছেছে।
যদিও অ্যান্ড্রয়েড ১৪ ও ১৫ ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, তবুও কোটি কোটি মানুষ এখনো পুরনো ও অনিরাপদ সংস্করণের উপর নির্ভর করছেন।বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা অনুযায়ী, নিরাপত্তা প্যাচ না থাকলে হ্যাকাররা ইউজারের অজান্তেই ফোনে আড়ি পাততে পারে। ব্যক্তিগত মেসেজ, ই-মেল, এমনকি ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্যও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ স্পাইওয়্যার নীরবে কাজ করে ব্যবহারকারীর সমস্ত সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে গুগলের স্পষ্ট পরামর্শ যাঁদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১৩ বা তার পরবর্তী সংস্করণ নেই, তাঁদের দ্রুত ডিভাইস আপডেট করা বা প্রয়োজনে নতুন ফোন ব্যবহারের কথা ভাবা উচিত। পাশাপাশি ফোনের অটোমেটিক সফটওয়্যার আপডেট অপশন চালু রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিশ্বজুড়ে সাইবার অপরাধ ক্রমশ বাড়ছে। তাই আপডেটেড সফটওয়্যার ছাড়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করা যে বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে, তা নিয়ে আর কোনও সন্দেহ নেই। গুগলের এই সতর্কবার্তা সেই বিপদের কথাই ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

