রাতদিন ওয়েবডেস্ক : প্রাচীন রোমে মল ছিল মহামূল্যবান ওষুধ, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য ইতিহাসের পাতায় প্রাচীন রোমানদের উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা এবং বিলাসবহুল স্নানাগারের কথা সচরাচর শোনা গেলেও, এবার তাঁদের এক অদ্ভুত চিকিৎসা পদ্ধতির অকাট্য প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, প্রাচীন রোমে মানুষের মল বা বিষ্ঠা চিকিৎসার কাজে ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। যদিও প্রাচীন নথিপত্রে এই ধরনের অশোভন ঘরোয়া টোটকার উল্লেখ আগে পাওয়া গিয়েছিল, তবে এবারই প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে এর ভৌত বা সরাসরি প্রমাণ মিলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, রোমানরা বিশ্বাস করত যে মানুষের মল শুকিয়ে বা বিভিন্ন উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ক্ষত নিরাময়, চর্মরোগ কিংবা পেটের গোলমাল সারিয়ে তোলা সম্ভব। ডাস্টবিন বা প্রাচীন পয়ঃনিষ্কাশন নালার ধ্বংসাবশেষ থেকে সংগৃহীত জৈবিক নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সেখানে বিশেষ কিছু পরজীবী এবং খনিজ উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে যা সেই সময়ের চিকিৎসা পদ্ধতির দিকেই ইঙ্গিত করে। প্রাচীনকালের বিখ্যাত চিকিৎসকরাও তাঁদের পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ করেছিলেন যে, ছাগলের মল কিংবা মানুষের মল যখন পোড়ানো হয় বা মধুর সঙ্গে মেশানো হয়, তখন তা বিষাক্ত পোকার কামড় কিংবা ঘা সারাতে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা নেয়। বর্তমান যুগে বিষয়টি অস্বস্তিকর মনে হলেও, বিজ্ঞানীদের মতে এটি প্রমাণ করে যে রোমানরা বিজ্ঞানের অন্ধকার যুগেও শরীরের প্রাকৃতিক বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার এক আদিম ও অদ্ভুত প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন রোমের মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্যবিধি এবং তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় বিদ্যমান কুসংস্কার ও বিজ্ঞানের মিশেলকে নতুন করে বুঝতে সাহায্য করবে। বিশেষত উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে শুরু করে সাধারণ সৈনিকদের মধ্যেও এই ধরনের ‘ফেকাল থেরাপি’ বা বর্জ্য-ভিত্তিক চিকিৎসা প্রচলিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গবেষণালব্ধ তথ্যটি মূলত প্রাচীন রোমের চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনালোচিত এবং বিস্ময়কর দিককে জনসমক্ষে নিয়ে এল।

