রাতদিন ওয়েবডেস্ক : কেন্দ্রীয় বাজেটে দুর্গাপুরকে কেন্দ্র করে পূর্ব ভারতের শিল্প সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করার যে ঘোষণা করা হয়েছে, তা নিয়ে শিল্পমহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দুর্গাপুরের ভৌগোলিক গুরুত্ব ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প করিডর এবং ডানকুনি থেকে সুরাত পর্যন্ত ফ্রেট করিডরের পরিকল্পনা পেশ করলেও, স্থানীয় বণিক মহলের মধ্যে গভীর সংশয় কাজ করছে।
গত তিন দশকে দুর্গাপুর ও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে একের পর এক কেন্দ্রীয় সংস্থার ঝাঁপ বন্ধ হওয়া এবং অতীতের বহু ঘোষিত প্রকল্পের ধীরগতি সাধারণ ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের মনে আস্থার অভাব তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০০৯ সালে ঘোষিত ডানকুনি লুধিয়ানা ফ্রেট করিডর আজও অসম্পূর্ণ থাকায় নতুন ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। দুর্গাপুর চেম্বার অফ কমার্স থেকে শুরু করে এডিডিএ র চেয়ারম্যান, সকলেই এই প্রকল্পের স্বচ্ছ রূপরেখা এবং জমি অধিগ্রহণের মতো জটিল সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। ক্ষুদ্র শিল্প মালিকদের মতে, পরিকাঠামো উন্নতিতে বড় ও মাঝারি শিল্পের পরিবহণ খরচ কমলেও ক্ষুদ্র শিল্পের ভাগ্যবদল কতটা হবে তা অনিশ্চিত।
অন্যদিকে, ডানকুনি-সুরাত করিডর সফল হলে হুগলি শিল্পাঞ্চলের ভোল পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পরিকল্পনার অভাব ভাবিয়ে তুলছে সংশ্লিষ্ট মহলকে। মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আশ্বাসের বদলে জমি সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করার দাবিই এখন এই অঞ্চলের মূল সুর। পরিশেষে বলা যায়, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পগুলি শুধু ঘোষণা হিসেবে থেকে না গিয়ে বাস্তবায়িত হলে পূর্ব ভারতের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পে যেমন জোয়ার আসবে, তেমনই বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘না আঁচালে বিশ্বাস নেই’ প্রবাদটিই যেন দুর্গাপুর ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের মানুষের মনের আসল প্রতিচ্ছবি।

