রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গতবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এক অভিনব ও কঠোর কৌশল অবলম্বন করছে বিজেপি। ২০২১ বা ২০২৪-এর মতো এবার টলিউড-টেলিউড বা অন্য দলের ভারী নেতাদের ‘উড়ে এসে জুড়ে বসা’র হুল্লোড় নেই, বরং ‘ঘরপোড়া গরু’র মতো অতিরিক্ত সতর্ক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। পেশাদার সমীক্ষক সংস্থাকে দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে যেমন তিনজনের ‘পছন্দের তালিকা’ তৈরি করা হয়েছে, তেমনই সমান্তরালভাবে তৈরি করা হয়েছে তিনজনের ‘না-প্রার্থী’ বা ‘অপছন্দের তালিকা’।
মূলত ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা বা লবিংয়ের জোরে যাতে কোনও বিতর্কিত বা জনবিচ্ছিন্ন মুখ টিকিট না পায়, তা নিশ্চিত করতেই দিল্লির নির্দেশে এই গোপন সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সমীক্ষক দল ভোটারদের বাড়ি গিয়ে বা ফোনে কথা বলে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে, যেখানে মূলত নাম উঠে এসেছে এমন নেতাদের যারা একসময় তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের হাত ধরে বিজেপিতে এসেছিলেন এবং যাদের ভাবমূর্তি স্থানীয় স্তরে স্বচ্ছ নয়। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের রাজারহাট-নিউটাউন, বিধাননগর, চণ্ডীপুর বা পাঁশকুড়ার মতো আসনে অনেক চেনা মুখ ও রাজ্য স্তরের পদাধিকারী এই ‘না-পছন্দ’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
মণ্ডল স্তরের কর্মীদের থেকে এই সব অপছন্দের নামের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও আপত্তির কারণ সংগ্রহ করে নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। রাজ্য নেতাদের একাংশকে অন্ধকারে রেখে সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে চলা এই প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত হয়ে যোগ্য প্রার্থী চয়ন করা, যাতে নির্বাচনের পর প্রার্থী বাছাই নিয়ে ২০২১-এর মতো ক্ষোভ বা অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি না হয়। অর্থাৎ, এবারের নির্বাচনে শুধুমাত্র জনপ্রিয়তাই নয়, বরং জনমানসে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং স্থানীয় স্তরে গ্রহণযোগ্যতাই বিজেপির টিকিট পাওয়ার প্রধান মাপকাঠি হতে চলেছে।

