রাতদিন ওয়েবডেস্ক : চট্টগ্রামে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর একমাত্র প্রার্থী জুবাইরুল হাসান আরিফের নির্বাচনী যাত্রা হতাশাজনকভাবে শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া জুবাইরুল মাত্র সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যার ফলে তাঁর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।এনসিপি, যা মূলত ছাত্রদের দ্বারা গঠিত হয়েছিল এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক মঞ্চে পরিচিতি পায়, শুরু থেকেই গণঅভ্যুত্থানের ডাক দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু রাজপথে দাপট দেখালেও নির্বাচনে দলটি সম্পূর্ণ দিশাহীন ছিল।নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯ আসনের মধ্যে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি।
জামাত পেয়েছে ৬৮টি আসন, আর এনসিপি মাত্র ৬টি আসনে জয়ী হয়েছে। এই ফলাফল থেকে স্পষ্ট যে, সাধারণ জনতা এবং ভোটাররা যুবনেতাদের বিপ্লবী দাবিকেও সমর্থন দেয়নি। এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে ৮ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি হুমকি দেওয়া এই নেতা তাঁর নির্বাচনী যাত্রায় ব্যর্থ হয়েছেন।ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির শীর্ষ নেতা নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদের কাছে হেরে গেছেন। তাসনিম জারা, যিনি ব্রিটেনের চাকরি ছেড়ে দলটিতে যোগ দিয়েছিলেন, ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও হেরে গেছেন। এনসিপির একমাত্র বিজয়ী হয়েছেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।বিশ্লেষকরা বলছেন, দলের এমন দুর্বল পারফরম্যান্সের পেছনে আছে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভাব। নতুন গঠিত দলটি যথেষ্ট সংগঠিত নয়, তার উপর জামাতের সঙ্গে জোটের কারণে সাধারণ ভোটারের আস্থা হারিয়েছে। অনেক যুবক এনসিপি ছেড়ে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন বা নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন। দলীয় নেতাদের মধ্যে কিছু ক্ষমতাভোগী ব্যক্তি দলের সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করেছেন, যা দলের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।ফলাফল থেকে স্পষ্ট, রাজপথে দাপট দেখানো বিপ্লবী নেতা হলেও নির্বাচনী ময়দানে জনগণ তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। এনসিপির উদ্যম এবং আন্দোলনের ইতিহাস থাকলেও, রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলের ছাপ সীমিত। আগামী দিনে দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

