রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ভারতীয় সঙ্গীত জগতের অবিসংবাদিত সম্রাট অরিজিৎ সিং মাঝেমধ্যেই তাঁর রহস্যময় এবং সোজাসাপ্টা মন্তব্যের জন্য শিরোনামে আসেন। সম্প্রতি তাঁর একটি বক্তব্য সঙ্গীত অনুরাগীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অরিজিৎ সিং বেশ কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি নেপথ্য গায়ক বা প্লেব্যাক সিঙ্গার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন থেকে দীর্ঘ বিরতি নিতে চাইছেন, এমনকি অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘোষণার পরেও আমিল খানের ছেলে জুনায়েদ খানের সিনেমা বা সলমন খানের ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’-এর মতো বড় প্রজেক্টে তাঁকে গান গাইতে দেখা যাচ্ছে।
এই আপাত বৈপরীত্য নিয়ে যখন ভক্তদের মনে প্রশ্ন দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই অরিজিৎ স্পষ্ট করে দিলেন কেন তিনি এখনও গান গাইছেন এবং কেন তিনি এআর রহমান বা প্রীতমের মতো কিংবদন্তি সুরকারদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করছেন। অরিজিৎ জানিয়েছেন যে, বর্তমান সিনেমাগুলোতে তাঁর যেসব গান শোনা যাচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অনেক আগে চুক্তিবদ্ধ হওয়া কাজ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁর গাওয়া গানের একটি বড় ভাণ্ডার মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে যা তিনি আগেই রেকর্ড করে রেখেছেন। তবে আসল চমক এসেছে তাঁর এক ভক্তের অনুরোধের উত্তরে। জনৈক অনুরাগী সমাজমাধ্যমে অরিজিৎকে অনুরোধ করেছিলেন যে, অন্তত ভক্তদের কথা ভেবে হলেও যেন তিনি রহমান এবং প্রীতমের মতো সঙ্গীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যান, কারণ তাঁরাই অরিজিৎকে শ্রেষ্ঠ সুরগুলো উপহার দেন। এই অনুরোধের জবাবে অরিজিৎ অত্যন্ত নির্লিপ্ত কিন্তু দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, “সকলে নিজের জন্য গান বানান, অন্যের জন্য নয়।” অরিজিতের এই মন্তব্যের গভীরতা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
অনেকের মতে, অরিজিৎ এখন নিজের সৃজনশীল স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে বাণিজ্যিক চাহিদার উপরে স্থান দিতে চাইছেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের এক নম্বর গায়ক থাকার পর, তিনি সম্ভবত আর সুরকারদের নির্দেশ অনুযায়ী বাঁধা ধরা ছকে গান গাইতে চাইছেন না। প্রীতমের হাত ধরেই বলিউডে অরিজিতের উত্থান হয়েছিল এবং এআর রহমানের সুরেও তিনি কালজয়ী গান গেয়েছেন, কিন্তু এখন তিনি নিজের অস্তিত্বকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে মরিয়া। তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি এখন থেকে কেবল সেই কাজগুলোই করতে চান যা তাঁর নিজের সত্তাকে তৃপ্ত করবে, কোনো সুরকারের চাহিদাকে নয়। অরিজিতের এই ‘না’ বলা আসলে কোনো ব্যক্তিগত তিক্ততা থেকে নয়, বরং একজন শিল্পীর নিজের সৃষ্টির ওপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই উদ্ভূত। এই অবস্থান ভক্তদের জন্য কিছুটা মন খারাপের হলেও, অরিজিতের এই স্পষ্টবাদিতা প্রমাণ করে যে তিনি খ্যাতির মোহের চেয়ে নিজের আদর্শ এবং মানসিক প্রশান্তিকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে অদূর ভবিষ্যতে প্রীতম বা রহমানের সুরে তাঁর ম্যাজিক শোনার সম্ভাবনা ক্ষীণ হলেও, তিনি নিজের মতো করে যে স্বতন্ত্র সঙ্গীত সফর শুরু করেছেন, সেখানে তিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা হিসেবে থাকতে চান। অরিজিতের এই সিদ্ধান্ত বলিউড প্লেব্যাক জগতের এক যুগের অবসান এবং সম্ভবত একটি নতুন ঘরানার সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

