রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ‘সিপিএম অতীত’ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির এই মন্তব্য ঘিরে ফের চড়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ। বর্ধমানের সাঁইবাড়ি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। প্রশ্ন উঠছে, বামেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট-সমীকরণ থেকে সরে এসে কি এবার সরাসরি সম্মুখসমরের পথে হাঁটতে চাইছে হাত শিবির?বর্ধমান সফরে গিয়ে সাঁইবাড়ির শহিদদের স্মরণ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। সেই মঞ্চ থেকেই তিনি সিপিএমের সঙ্গে সম্পর্ককে ‘অতীত’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনা।
বিশেষত, বর্ধমান জেলায় কংগ্রেসের হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারের কৌশল হিসেবেই কি এই অবস্থান তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে।২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত একাধিক নির্বাচনে কংগ্রেস ও সিপিএম জোটবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। সেই সময়েই দলের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছিল, ঐতিহাসিক দ্বন্দ্ব ভুলে কীভাবে বামেদের সঙ্গে হাত মেলাল কংগ্রেস। তবে এবার সেই সমীকরণ ভেঙে ২৯৪টি আসনেই একা লড়াইয়ের ঘোষণা করেছে এআইসিসি। ফলে রাজনৈতিক দূরত্ব যে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।এই আবহে জেলা সফর শুরু করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। বর্ধমান থেকে বীরভূম হয়ে হুগলি পর্যন্ত কর্মসূচি রয়েছে নেতৃত্বের। শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে রয়েছেন দলের পর্যবেক্ষক গোলাম মীর এবং ত্রিপুরার নেতা সুদীপ রায়বর্মনসহ অন্যরা। এই সফরের মধ্যেই সাঁইবাড়ি প্রসঙ্গ সামনে আসায় রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়েছে।সিপিএমের তরফে অবশ্য পাল্টা সুর শোনা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “কংগ্রেস একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই করুক। মানুষ সব বিচার করবে। সাঁইবাড়ির কথা বললে তদন্ত রিপোর্টের কী হল, সেই প্রশ্নও উঠবে।” তাঁর দাবি, অতীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রকাশ করেনি।অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, তারা অতীতের ক্ষত খুঁড়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে না। শুভঙ্কর সরকারের দাবি, “আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। বাংলার বেকারত্ব, অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়েই কথা বলতে চাই। পুরনো ঘটনা নিয়ে সিপিএম এত উদ্বিগ্ন কেন, সেটাই প্রশ্ন।”সব মিলিয়ে সাঁইবাড়ি প্রসঙ্গ ঘিরে বাম-কংগ্রেস সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, তা এখন রাজনৈতিক মহলের নজরে।

