রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মেদ ঝরিয়ে শরীর ফিট রাখতে জাপানি টোটকা, ঘরোয়া পদ্ধতিতে বানিয়ে নিন বিশেষ আচার। আধুনিক জীবনযাপনে বাড়তি ওজন বা মেদ জমে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীরচর্চা বা ডায়েট করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে জাপানিদের দীর্ঘায়ু ও সুস্থ থাকার গোপন রহস্য, যার অন্যতম প্রধান অংশ হলো তাদের খাদ্যাভ্যাস। বিশেষ করে জাপানি ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের আচার বা ‘সুকুমনো’ শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলাতে জাদুর মতো কাজ করে।
এই বিশেষ ধরনের ফার্মেন্টেড ফুড বা গাঁজানো খাবারগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি বিপাক হার বা মেটাবলিজম বাড়িয়ে দেয়, যা দ্রুত ওজন কমাতে সহায়ক। আপনি চাইলেই বাড়িতে খুব সহজে জাপানি শৈলীর এই স্বাস্থ্যকর আচার তৈরি করে নিতে পারেন। যেমন ‘উমেবোশি’ বা লবনাক্ত কুল। এটি তৈরিতে সাধারণত বরই বা ওই জাতীয় টক ফল ব্যবহার করা হয় যা হজমশক্তি বাড়াতে অতুলনীয়। এছাড়া আছে সাদা মুলো বা গাজর দিয়ে তৈরি বিশেষ আচার, যেখানে ভিনেগার এবং সামান্য চিনির মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এই খাবারে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদানগুলো শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। জাপানিরা তাদের দুপুরের বা রাতের খাবারের সঙ্গে নিয়মিত এই ধরনের আচার খেয়ে থাকেন, যা পাকস্থলীতে থাকা উপকারি ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়িয়ে চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। বিশেষ করে পেটের জেদি মেদ কমাতে আদা ও শশার জাপানি আচার অত্যন্ত কার্যকর। এই আচারগুলোতে তেলের ব্যবহার প্রায় থাকে না বললেই চলে, ফলে ক্যালরি নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই। সুস্থ থাকতে এবং মেদহীন শরীর পেতে আপনিও আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এই ধরনের জাপানি ঘরোয়া আচার যোগ করতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র এই আচারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিত শরীরচর্চাও সমান জরুরি। প্রাকৃতিক উপায়ে শরীরের বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফেলার এই জাপানি কৌশল বর্তমানে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। তাই কৃত্রিম সাপ্লিমেন্টের বদলে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবারগুলো হতে পারে আপনার সুস্থ থাকার সহজ সমাধান।

