রাতদিন ওয়েবডেস্ক : হায়দরাবাদের ২৮ বছর বয়সি মনসা বানোথের জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্ত সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ‘কিচেনটেলস’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করা ভিডিয়োতে দেখা যায়, বিমানবন্দরে মাকে বিদায় জানাতে এসে হাপুস নয়নে কাঁদছে তাঁর তিন বছরের কন্যা। বিদেশে পড়াশোনার জন্য কানাডায় ফেরার সময় মেয়েকে রেখে যেতে বাধ্য হন মনসা। সন্তানের কান্নায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লেও নিরুপায় হয়ে বিমানে উঠতে দেখা যায় তাঁকে।সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে মনসার বিয়ে হলেও বর্তমানে তিনি স্বামীর সঙ্গে থাকেন না।
গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ২০২২ সালের মার্চ মাসে কন্যাসন্তানের জন্মের পর স্বামী তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ। এরপর থেকে একাই মেয়েকে মানুষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মনসা। হায়দরাবাদে বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে তাঁদের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেন এবং কাজের খোঁজ চালাতে থাকেন।অবশেষে মানবসম্পদ (এইচআর) কর্মী হিসাবে একটি চাকরি পান তিনি। মাসিক বেতন ছিল ৩৫ হাজার টাকা। তবে সেই আয় সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মনে হওয়ায় উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেন মনসা। কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। বর্তমানে তাঁর পড়াশোনার খরচ বহন করছেন বাবা। পাশাপাশি পড়াশোনার ফাঁকে হাতখরচ জোগাতে ছোটখাটো কাজও করছেন মনসা।সম্প্রতি ছুটি নিয়ে ভারতে এসে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। কিন্তু কানাডায় ফেরার দিন বিমানবন্দরে ঘটে হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মাকে যেতে দিতে না চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে ছোট্ট মেয়ে। মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য ছটফট করতে থাকে সে। সেই দৃশ্যই ভিডিয়োতে ধরা পড়েছে। ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই নেটাগরিকদের একাংশ সহানুভূতি প্রকাশ করলেও, অন্য অংশের সমালোচনার মুখে পড়েন মনসা। ছোট সন্তানকে রেখে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।সমালোচনার জবাবে মুখ খোলেন মনসা। তিনি জানান, তাঁর এবং স্বামীর মধ্যে আইনি মামলা চলছে। আদালতের বিধিনিষেধের কারণে মেয়ে বিদেশে যেতে পারছে না। সন্তানের পাসপোর্ট তৈরির জন্য স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন, যা এখনও মেলেনি। সংবাদমাধ্যমে মনসা বলেন, “আমার মেয়ের বয়স তিন বছর। যোগাযোগের চেষ্টা করলেও প্রাক্তন স্বামী কোনও জবাব দেন না। একাই এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি।” তাঁর কথায়, সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

