রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে, যখন এক পরিবারের তরুণী মেয়ে হঠাৎ করে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। সকালে মেয়ের ঘরে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখেন বিছানা ফাঁকা। কিন্তু রহস্য বাড়ে যখন বিছানার ওপর একটি সাপের খোলস পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্য দেখেই বাবা মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। গ্রামীণ কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তারা ধরে নেন যে, তাদের মেয়ে সাধারণ কোনো মানুষ নয়, বরং সে কোনো 'ইচ্ছাধারী নাগিন' ছিল। তাদের দাবি, মেয়েটি মাঝে মাঝেই অদ্ভুত আচরণ করত।
বিছানায় সাপের খোলস পাওয়া মানেই সে সাপের রূপ ধরে কোথাও চলে গেছে। বাবা মা কান্নায় ভেঙে পড়ে পাড়াময় রটিয়ে দেন যে তাদের মেয়ে নাগিন হয়ে গেছে। পুলিশের তৎপরতা ও আসল সত্য গ্রামজুড়ে যখন এই অলৌকিক গল্প ডালপালা মেলছে, তখন পুলিশ তদন্তে নামে। সাপের খোলস দেখে পুলিশ বিভ্রান্ত না হয়ে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেয়। মেয়ের মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করতেই আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। যুবতী আসলে এলাকারই এক যুবকের প্রেমে পড়েছিলেন। কিন্তু পরিবার এই সম্পর্ক মেনে নেবে না জেনে তিনি বাড়ি থেকে পালানোর পরিকল্পনা করেন। পুলিশ জানায়, পালানোর সময় যাতে কেউ তাকে খোঁজার চেষ্টা না করে এবং অলৌকিক ভয় পায়, সেজন্য তিনি আগে থেকেই একটি সাপের খোলস জোগাড় করে বিছানায় রেখে গিয়েছিলেন। প্রেমিকের কাছে উদ্ধার লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, যুবতী কোনো গর্তে নয়, বরং পাশের এক গ্রামে তার প্রেমিকের বাড়িতে দিব্যি সুস্থ শরীরে অবস্থান করছেন। পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত নাগিন রহস্যের যবনিকা পতন হয়। যুবতীকে থানায় এনে তার জবানবন্দি নেওয়া হয় এবং পরে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কুসংস্কার যে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে কতটা আচ্ছন্ন করতে পারে, এই ঘটনা তার এক চরম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজ্ঞান ও যুক্তির যুগেও এই ধরণের সাপের খোলস সাজিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঘটনা বুঝিয়ে দেয় যে, সচেতনতা এখনো কতটা জরুরি।

