রাতদিন ওয়েবডেস্ক : মহিলারা অনেক সময় শরীরের ছোটখাটো সমস্যাকে গুরুত্ব দেন না। দৈনন্দিন কাজের চাপ, পরিবার ও পেশাগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে ক্লান্তি, পেট ফোলা বা হজমের গোলমালকে সাধারণ সমস্যা ভেবেই এড়িয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই উপসর্গগুলির মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত। সময়মতো পরীক্ষা না করালে রোগ জটিল আকার নিতে পারে।বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, বিশেষ করে স্তন, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার অনেক ক্ষেত্রেই নীরবে শুরু হয়। শুরুতে তেমন তীব্র ব্যথা বা গুরুতর সমস্যা দেখা না দিলেও শরীর কিছু ইঙ্গিত দিতে থাকে। সেই ইঙ্গিতগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এমনই একটি লক্ষণ, যা অনেকেই অবহেলা করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও যদি সবসময় অবসন্ন লাগে বা কাজের এনার্জি না থাকে, তবে তা শরীরের ভিতরে অন্য কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। রক্তাল্পতা, হরমোনের সমস্যা ছাড়াও কিছু ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায়ে এই উপসর্গ দেখা যায়।অনিয়মিত রক্তপাতও বড় সতর্কবার্তা।
ঋতুস্রাবের নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে রক্তপাত, যৌন সম্পর্কের পর রক্তপাত কিংবা মেনোপজের পর হঠাৎ রক্তস্রাব এসব কোনওটাই স্বাভাবিক নয়। অনেক সময় জরায়ু বা সার্ভিক্স সংক্রান্ত ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই লজ্জা বা ভয় না পেয়ে দ্রুত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।পেট ফোলা, ভারী লাগা বা দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকেও হালকাভাবে দেখা উচিত নয়। বিশেষ করে ওভারিয়ান ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে পেটের অস্বাভাবিক ফোলাভাব, ব্যথা বা দ্রুত পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি দেখা যায়। অনেকেই এগুলোকে গ্যাস বা হজমের সমস্যা ভেবে ওষুধ খেয়ে সময় নষ্ট করেন। কিন্তু উপসর্গ দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে পরীক্ষা করানো জরুরি।হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা হজমের সমস্যা দেখা দিলেও সতর্ক থাকতে হবে। কোনও ডায়েট বা অতিরিক্ত পরিশ্রম ছাড়াই দ্রুত ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজম শরীরের ভেতরে বড় অসুখের ইঙ্গিত দিতে পারে। একইভাবে প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন বারবার প্রস্রাবের বেগ, জ্বালা বা মলের ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসবও উপেক্ষা করা ঠিক নয়।স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে সচেতনতা আরও জরুরি। শুধু লাম্প থাকলেই যে স্তন ক্যানসার হবে, তা নয়।
স্তনের আকার বদলে যাওয়া, চামড়ায় ভাঁজ পড়া, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক তরল নির্গত হওয়া বা স্থায়ী ব্যথা এসবই প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা এবং নির্দিষ্ট বয়সের পর ম্যামোগ্রাফি করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।চিকিৎসকদের মতে, কোনও উপসর্গ যদি দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দেরি না করে পরীক্ষা করানো উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক বেশি কার্যকর হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষাই পারে বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে।নিজের শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিন। কারণ সময়মতো পদক্ষেপই হতে পারে জীবনরক্ষার চাবিকাঠি।
