রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ নেওয়ার পরদিনই ঢাকায় হাজির হলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইইপ এরদোগেন -এর পুত্র বিলাল এর্ডোয়ান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জার্মানির বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার মেসুটা ওজিল এবং তুরস্কের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লা। পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই সফর হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামে এর্ডোয়ানের ব্যক্তিগত বিমান। সেখান থেকে সরাসরি হোটেলে যান তাঁরা। সফরের বিষয়ে আগে থেকে সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি বলেই সূত্রের দাবি।
ফলে পুরো বিষয়টি গোপনীয়তার আবরণে ঢাকা ছিল।জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে টিকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প রয়েছে। আরন আবদুল্লার সঙ্গে বিলাল এর্ডোয়ান ও ওজ়িল টিকার স্থানীয় দফতরে যান। পরে তাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের -এ একটি নতুন মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্বোধন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জামাত-ঘনিষ্ঠ ইসলামী ছাত্রশিবির জয়ী হওয়ার পর টিকার আর্থিক সহায়তায় ওই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। ওজ়িলকে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।সফরের দ্বিতীয় দিনেও রয়েছে ব্যস্ত সূচি। বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের কথা তাঁদের। সেখানে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মহম্মদ মিজ়ানুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শিবিরে তুরস্ক-সমর্থিত হাসপাতাল, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পরিদর্শন এবং একটি রোহিঙ্গা ফুটবল প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণীতেও যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের।টিকার চেয়ারম্যান আরন আবদুল্লাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। মানবিক সহায়তার আড়ালে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে সহায়তার অভিযোগ একাধিক বার উঠেছে এই সংস্থার বিরুদ্ধে, যদিও তা প্রমাণিত হয়নি।তারেক রহমানের শপথের ঠিক পরদিন এমন একটি প্রতিনিধিদলের আগমন এবং সফর নিয়ে গোপনীয়তা সব মিলিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরের তাৎপর্য কী, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।
