রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শহর জুড়ে প্রায় তিন লক্ষ বাতিস্তম্ভকে ধাপে ধাপে সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। প্রতিটি আলোকস্তম্ভে উন্নত আর্থিং ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে বিদ্যুৎ লিকেজের মতো পরিস্থিতিতে তড়িৎ সরাসরি মাটিতে নেমে যায় এবং মানুষের সংস্পর্শে এসে দুর্ঘটনা না ঘটে। পাশাপাশি খুঁটির নীচের অংশ থেকে কিছুটা উপরে পর্যন্ত পিভিসি পাইপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়।গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শারদোৎসবের প্রাক্কালে প্রবল বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল শহরের একাধিক এলাকা।
সেই সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় পুরসভা ও বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থা CESC-কে। পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর থেকেই বিকল্প ও আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা শুরু হয়।পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে থেকেই বাতিস্তম্ভে আর্থিং ব্যবস্থা থাকলেও তা আরও উন্নত ও কার্যকর করা হচ্ছে। বিশেষত বর্ষাকালে বা টানা বৃষ্টিতে রাস্তা জলমগ্ন হলে খুঁটির গায়ে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই ঝুঁকি এড়াতেই নতুন এই উদ্যোগ। আলো বিভাগের এক আধিকারিক জানান, পিভিসি আবরণ থাকলে খুঁটির বাইরের অংশে বিদ্যুৎ প্রবাহ পৌঁছনোর সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। ফলে পথচলতি মানুষ বা আশপাশের বাসিন্দাদের তড়িদাহত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে।স্বাভাবিকভাবেই এত বিপুল সংখ্যক বাতিস্তম্ভের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুরসভার দাবি, এটি আর্থিং ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও শক্তিশালীকরণের প্রক্রিয়া, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বড় বিপত্তি এড়ানো যায়। শীর্ষ কর্তাদের আশা, এ বছরের বর্ষা শুরুর আগেই অধিকাংশ খুঁটিতে আর্থিং ও পিভিসি সুরক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে। নাগরিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে পুর প্রশাসন।
