রাতদিন ওয়েবডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের নিলম্বন সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজ্য-কমিশন সংঘাত তীব্র হল। সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সাংবাদিক বৈঠক করে প্রতিক্রিয়া জানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা চাকরি হারাচ্ছেন না। তবে আপাতত নির্বাচনের কাজে থাকবেন না; অন্য প্রশাসনিক দায়িত্বে কাজ করবেন।নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই নির্বাচন কমিশন একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনকে ‘তুঘলকি’ মনোভাবের বলে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইআরও-দের সাসপেন্ড করার আগে তাঁদের কাছে কি জানতে চাওয়া হয়েছিল, তাঁদের দোষ কী?” তাঁর দাবি, যদি কোনও অনিয়ম হয়ে থাকে, তা রাজ্য সরকারকে জানানো যেত।
কিন্তু তদন্ত বা শো-কজ় ছাড়াই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।মমতা জানান, দলীয় বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় কাউকে সাসপেন্ড করার আগে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়, জবাব খতিয়ে দেখা হয় এবং তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। এখানে সেই প্রক্রিয়া মানা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, “সাসপেন্ড উইথ পেন্ডিং ইনভেস্টিগেশন এই নিয়মই আমরা মানি। কিন্তু এখানে তদন্ত ছাড়াই সিদ্ধান্ত হয়েছে।” পাশাপাশি আশ্বাস দেন, রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাঁদের পদোন্নতিও দেওয়া হবে।যাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় এইআরও হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। কমিশনের অভিযোগ, তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে। রবিবার মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজ্য কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই কমিশন সরাসরি তাঁদের সাসপেন্ড করে এবং এইআরও দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেয়।এ দিন কমিশনের ভূমিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ইআরও, ডিএম ও পুলিশ প্রশাসনকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই এমন পদক্ষেপ কেন তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংখ্যালঘু, তফসিলি ও গরিব মানুষদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।এক বিএলও-র মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। শেষ পর্যন্ত মমতার হুঁশিয়ারি, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে রাজ্য চুপ করে থাকবে না। তাঁর কথায়, “আমরা সংবিধান মেনে চলি। কিন্তু মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে প্রত্যাঘাত করব।”

