রাতদিন ওয়েবডেস্ক : "গঙ্গা ভাঙন রোধে কেন্দ্রের তরফে কোনও আর্থিক সহায়তা মেলে না। কপালেশ্বরী-কেলেঘাই নদীর ভাঙন রোধে রাজ্য টাকা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার টাকা দেয়নি।" তিনি আরও বলেন, "ভাঙন রোধে কিছু করলে সেই টাকা জলে চলে যাচ্ছে। ৫ বছরে ১০০০ কোটি টাকা খরচ করেছি, সব টাকা জলে যাচ্ছে।"
মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ডিভিসি গঙ্গা ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।"গঙ্গা ভাঙন সমস্যা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে বেশ আলোচিত হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্টান্ট বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গঙ্গা ভাঙন সমস্যা সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। তিনি শুধু রাজনীতি করছেন।"গঙ্গা ভাঙন সমস্যা পশ্চিমবঙ্গের একটি বড় সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারকে একসাথে কাজ করতে হবে।কেন্দ্রীয় সরকার গঙ্গা ভাঙন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রতিনিধিদের নিয়ে আন্তঃরাজ্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গঙ্গা ভাঙন রোধে পরিকাঠামো নির্মাণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।ডিভিসি (দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন) গঙ্গা ভাঙন রোধে সরাসরি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে, গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশনের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রক এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে, যেখানে ডিভিসির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।পশ্চিমবঙ্গ সরকার গঙ্গা ভাঙন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সাথে যোগাযোগ করে ভাঙন রোধের দাবি জানিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার পাড় ভাঙন রোধে ১৬৩.৫ কিলোমিটার নদীপাড় জুড়ে গড়ে তোলা হবে শক্তিশালী পরিকাঠামো ও আধুনিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

