রাতদিন ওয়েবডেস্ক : প্রায় সাত দশক আগে ভারত থেকে বিলুপ্ত হয়েছিল চিতা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সাল থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে চিতা এনে দেশের অরণ্যে পুনর্বাসনের চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেই প্রকল্পেই আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্র। নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর এ বার আফ্রিকার আর এক দেশ বৎসোয়ানা থেকে নয়টি চিতা আনা হল ভারতে।শনিবার সকালে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে চিতাগুলিকে প্রথমে গ্বালিয়র বিমানবন্দরে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যান-এ পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের। রাজ্যের বন দফতর সূত্রে খবর, পার্কে প্রস্তুত করা জালঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে চিতাগুলিকে ‘সফ্ট রিলিজ়’ করা হয়েছে। নতুন এই সংযোজনের ফলে ভারতীয় বনাঞ্চলে আফ্রিকান চিতার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৮।
কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব নিজে উপস্থিত থেকে চিতাগুলিকে মুক্ত পরিবেশে ছাড়েন। প্রজেক্ট চিতার পরিচালক উত্তম শর্মা জানান, ‘‘বৎসোয়ানা থেকে বায়ুসেনার বিমানে ন’টি চিতাকে গ্বালিয়র বিমানবন্দরে আনা হয়েছিল। এই নিয়ে তৃতীয় দফায় ভারতে আফ্রিকার চিতা আনা হল।’’তিনি আরও জানান, এখনও পর্যন্ত তিনটি চিতাকে মধ্যপ্রদেশের গান্ধী সাগর অভয়ারণ্য-এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৬টি চিতা কুনো জাতীয় উদ্যানে রয়েছে। নতুন চিতাগুলি কিছু দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, তারপর ধাপে ধাপে মুক্ত বিচরণে ছাড়া হবে।প্রসঙ্গত, ১৯৫০-এর দশকে ভারতে এশীয় উপপ্রজাতির চিতা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। বর্তমানে এশীয় চিতা কেবল ইরানেই সীমিত সংখ্যায় টিকে রয়েছে। সেই কারণে আফ্রিকান উপপ্রজাতির চিতা এনে ভারতে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা ভারতে আনা হয়েছিল। কুনো জাতীয় উদ্যানে তাদের খাঁচা উন্মুক্ত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এর পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা হয় আরও ১২টি চিতা।পরবর্তী সময়ে কুনোয় জন্ম নেয় একাধিক শাবক। গত বছর ১২টি শাবকের জন্ম হয়েছিল। যদিও তিনটি শাবক-সহ মোট ছ’টি চিতার মৃত্যু হয়। ফলে ভারতের মাটিতে আফ্রিকান চিতার অভিযোজন ও টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আবহাওয়া ও পরিবেশগত কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটেন ও আমেরিকার বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়। তাঁদের মত ছিল, উত্তর আফ্রিকা থেকে চিতা আনলে তা ভারতের জলবায়ুর সঙ্গে বেশি মানানসই হতে পারে।চলতি বছর ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দু’দফায় মোট নয়টি শাবকের জন্ম হয়েছে কুনোয়। ২০২৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৯টি শাবকের জন্ম হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি বেঁচে রয়েছে বলে বন দফতর জানিয়েছে।সব মিলিয়ে, প্রজেক্ট চিতা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। চিতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং তাদের টিকে থাকার হার বাড়ানোই এখন মূল লক্ষ্য। নতুন করে বৎসোয়ানা থেকে চিতা আনার ফলে সেই প্রচেষ্টা আরও জোরদার হল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

