রাতদিন ওয়েবডেস্ক : আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বাহিনী তেহরানে হামলার পরই পশ্চিম এশিয়া জুড়ে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একের পর এক দেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে খবর। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।প্রাথমিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, তেহরানে হামলার পরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে দেয় ইরান। ইরানের সেনাবাহিনী প্রথমে ইজ়রায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এরপর তারা আমেরিকার বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইরানের সংবাদসংস্থা ফার্স সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার ও বাহরিনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেও আক্রমণ চালানো হয়েছে।রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, দুবাই শহর-এও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে।
যদিও বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।বর্তমান পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশে সামরিক সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলিকেই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইরানের বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার অন্তত ছয়টি মার্কিন মিত্র দেশে হামলা চালিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।ইজ়রায়েলের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, কাতার, বাহরিন, ইরাক, সৌদি আরব এবং জর্ডনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার দুপুরে কাতারের রাজধানী দোহা শহর-এ একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ইরানের হামলায় একজনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সতর্কবার্তা জারি করেছে।
কাতারের দোহায় থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস – দোহা। সেখানে থাকা ভারতীয়দের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ভারতীয় দূতাবাস – ইজ়রায়েল থেকেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইজ়রায়েলি প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে পশ্চিম এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়েছে। গত বছরও মার্কিন বাহিনী ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গিয়েছিল। সেই সময়ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তখন দোহায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল। এবার ফের একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।এখনও পর্যন্ত কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আকারের হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি। তবে পরিস্থিতি যে দ্রুত বদলাচ্ছে, তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

