Type Here to Get Search Results !

Train Disruption : ইঞ্জিন বিকল, ধুবুলিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কলকাতা–সাইরাং এক্সপ্রেস

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : ইঞ্জিন বিকলের জেরে নদিয়ার ধুবুলিয়া স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রইল দূরপাল্লার কলকাতা–সাইরাং এক্সপ্রেস। চরম ভোগান্তিতে পড়েন কয়েকশো যাত্রী। বিশেষ করে এসি কামরার যাত্রীরা জল ও বিদ্যুৎ সমস্যায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন। দীর্ঘক্ষণ কামরার ভিতরে আটকে থেকে ক্ষোভ উগরে দেন অনেকে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে নদিয়ার কৃষ্ণনগর স্টেশন থেকে বহরমপুরের দিকে রওনা দেয় ট্রেনটি। কিছু দূর যাওয়ার পর ধুবুলিয়া স্টেশন-এ দাঁড়িয়ে পড়ে কলকাতা–সাইরাং এক্সপ্রেস। প্রায় ৪৫ মিনিট কেটে গেলেও ট্রেন না ছাড়ায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে যাত্রীদের মধ্যে। পরে জানা যায়, ইঞ্জিনে গুরুতর যান্ত্রিক গোলমাল দেখা দিয়েছে।

রেল সূত্রে খবর, রানাঘাট স্টেশন ছাড়ার পর থেকেই ইঞ্জিনে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। কৃষ্ণনগর স্টেশনের ঠিক আগে একবার ট্রেন থামানো হয়। মিনিট দশেক পর ধীরগতিতে ট্রেনটি কৃষ্ণনগর স্টেশনে পৌঁছয়। সেখানে রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। সবুজ সঙ্কেত মেলার পর ফের রওনা দেয় ট্রেনটি। কিন্তু মিনিট পাঁচেক যেতে না যেতেই ধুবুলিয়ার কাছে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়ে ইঞ্জিন।খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মীরা। প্রাথমিক পরীক্ষার পর তাঁরা জানান, ইঞ্জিনে ‘পাওয়ার সাপ্লাই’ সংক্রান্ত বড়সড় সমস্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করা হয়। বিকল ইঞ্জিনটিকে কৃষ্ণনগরে ফিরিয়ে এনে ধুবুলিয়া থেকে নতুন ইঞ্জিন জুড়ে ট্রেনটিকে গন্তব্যের উদ্দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এদিকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। এসি থ্রি-টিয়ার কামরার যাত্রী প্রবীর আইচ, পেশায় সেনাকর্মী, জানান, ‘‘রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আমাদের গুয়াহাটি পৌঁছোনোর কথা। সেখান থেকে নির্দিষ্ট গাড়িতে পাহাড়ের ইউনিটে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এখন পরিস্থিতি যা, তাতে সময়মতো পৌঁছতে পারব কি না সন্দেহ।’’হাওড়ার রামরাজাতলার বাসিন্দা মঞ্জুশ্রী কারক সপরিবার দার্জিলিং যাচ্ছিলেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘‘হোটেল চেক-ইন থেকে গাড়ি—সব বুক করা। এখন পুরো পরিকল্পনাই ভেস্তে গেল। কামরায় জল নেই, শৌচাগারের সাফাই হচ্ছে না। মাঝেমাঝে এসি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গরমে দমবন্ধ অবস্থা। রেলের কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাচ্ছেন না।’’পূর্ব রেলের এই এক্সপ্রেস ট্রেনটি কলকাতা থেকে মিজ়োরামের আইজল জেলার সাইরাংয়ের মধ্যে চলাচল করে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ট্রেনের উদ্বোধন করেছিলেন।রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, যান্ত্রিক বিভ্রাট সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। দ্রুত বিকল্প ইঞ্জিন জুড়ে ট্রেনটিকে গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিট থেকে ধুবুলিয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেনটি।তবে এই ঘটনায় দূরপাল্লার যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘক্ষণ জল ও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কামরায় আটকে থাকার অভিজ্ঞতা সহজে ভুলতে পারছেন না অনেকেই।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad