রাতদিন ওয়েবডেস্ক : প্রতিদিন মাথাব্যথা হলে অনেকের মনেই প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, তা হল এটা কি ব্রেন টিউমারের লক্ষণ? চিকিৎসকদের মতে, এই ভয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অমূলক। কারণ মাথাব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ শারীরিক সমস্যা, যার পেছনে নানা ছোটখাটো কারণ থাকতে পারে।কাজের চাপ, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, মানসিক দুশ্চিন্তা, চোখের সমস্যা, গ্যাস্ট্রিক বা ডিহাইড্রেশন এসব কারণেই সাধারণত মাথাব্যথা হয়ে থাকে। তাই প্রতিদিন মাথা ধরলেই যে গুরুতর কোনও রোগ রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা বা অস্বাভাবিক ধরনের মাথাব্যথা বড় কোনও সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মস্তিষ্কে টিউমার থাকলেও মাথাব্যথা হতে পারে, কিন্তু সব মাথাব্যথার পেছনে ব্রেন টিউমার থাকে না। আমেরিকান ব্রেন টিউমার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেসব মাথাব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকে, সেগুলি কখনও কখনও মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ হতে পারে। তবে এমন ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং মস্তিষ্কের কোন অংশে চাপ পড়ছে, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। টিউমার বড় হলে বা স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে মাথাব্যথা শুরু হতে পারে। এই ধরনের মাথাব্যথা অনেক সময় সাধারণ মাইগ্রেন বা টেনশন হেডেক থেকে আলাদা হয়ে থাকে।চিকিৎসকদের মতে, ব্রেন টিউমারের ক্ষেত্রে মাথাব্যথার কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। যেমন রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া, শরীরের অবস্থান বদলালে ব্যথার ধরন পাল্টানো, সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে কাজ না করা, টানা কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে ব্যথা থাকা কিংবা সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথা ধরা। তবে সকালের মাথাব্যথার কারণ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো অন্য সমস্যাও হতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন ধরনের বা অস্বাভাবিক মাথাব্যথা হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে যদি ব্যথা ক্রমশ বাড়ে এবং দৈনন্দিন কাজে প্রভাব ফেলে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।এ ছাড়া মাথাব্যথার সঙ্গে মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো, বমি, খিঁচুনি, কথা বলতে অসুবিধা, ঝাপসা দেখা, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন বা শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মাথাব্যথাই ভয়ংকর নয়। তবে দীর্ঘস্থায়ী ও অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ। সতর্কতা ও সচেতনতাই সুস্থ থাকার।

