রাতদিন ওয়েবডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ। বাংলার মনীষী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর পরিবারের সদস্য সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টি-তে। বৃহস্পতিবার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি।কয়েক মাস আগেই ‘বন্দে মাতরম’ গান রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্রকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে উল্লেখ করেন। সেই মন্তব্য ঘিরে বিজেপির বিরুদ্ধে বাংলার মনীষীকে অপমানের অভিযোগ ওঠে এবং রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্কিম পরিবারের সদস্যের বিজেপিতে যোগদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।বিধানসভা ভোটমুখী বাংলায় এই পদক্ষেপ কি ‘বঙ্কিমদা’ বিতর্কের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার কৌশল? জল্পনা তেমনই।
শাসক ও বিরোধী শিবির দুই পক্ষেই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির একাংশের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারা তুলে ধরতেই এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ।দলে যোগ দিয়েই সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ করেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নথিভুক্ত লক্ষাধিক যুবকের তথ্য প্রশাসনিক নির্দেশে মুছে ফেলা হয়। পরে এমপ্লয়মেন্ট ব্যাঙ্ক গঠন করা হলেও বাস্তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। যুবশ্রী প্রকল্প চালু করে পরে তা বন্ধ করে দেওয়া এবং বর্তমানে চালু যুবসাথী প্রকল্পও বেকারদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করতে পারেনি এমনই মন্তব্য করেন সুমিত্র।ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করেছে। তাঁর আদর্শ পশ্চিমবঙ্গকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।” তাঁর বক্তব্য, এই যোগদান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনকে আরও শক্তিশালী করবে।
তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, বাংলার মনীষীদের নাম উচ্চারণে ভুল করা থেকে শুরু করে তাঁদের অবমাননার অভিযোগ বারবার উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। নির্বাচনের মুখে বঙ্কিম আবেগকে কাজে লাগাতেই পরিবারের সদস্যকে দলে আনার চেষ্টা এমন অভিযোগও তুলেছেন শাসকদলের একাংশ। তাঁদের প্রশ্ন, মনীষীদের সম্মান রক্ষায় কতটা আন্তরিক বিজেপি?অন্য দিকে বিজেপির অন্দরে চলছে হিসেবনিকেশ। এই যোগদান আদৌ ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলবে কি না, কিংবা সারাবছর মাঠে-ময়দানে কাজ করা কর্মীদের কতটা উৎসাহিত করবে তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতীকী রাজনীতি নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব নির্ভর করবে সংগঠন ও জনসংযোগের উপরই।সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের আগে বঙ্কিমচন্দ্রকে ঘিরে আবেগ ও রাজনীতি আবারও সামনে এল। এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।
