রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শিয়ালদহ সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হাড়হিম করা ঘটনাটি সমাজ ও সম্পর্কের এক অন্ধকার দিককে সামনে এনেছে। প্রাক্তন রেলকর্মী ত্বনিস হালদারের এই নৃশংস কীর্তি এখন খবরের শিরোনামে। পুরো ঘটনাটি বিশ্লেষণ করলে একটি চরম অপরাধমূলক চিত্র ফুটে ওঠে। এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রূপরেখা অভিযুক্ত ত্বনিস হালদার রেলের প্রাক্তন কর্মী ছিলেন।
তিনি তাঁর লিভ ইন পার্টনার বা একত্রবাসের সঙ্গিনীর সাথে বসবাস করতেন। প্রতিবেশীদের সূত্রমতে, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ছিল। ঘটনার দিন বচসা তুঙ্গে উঠলে ত্বনিস ওই মহিলাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু নৃশংসতা এখানেই থেমে থাকেনি। ট্রাঙ্ক বন্দি দেহ ও দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে পার্সেল, খুন করার পর সেই দেহ লোপাট করার জন্য ত্বনিস এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করেন। তিনি একটি বড় লোহার ট্রাঙ্ক কেনেন এবং তাতে সঙ্গিনীর দেহটি ঢুকিয়ে তালাবন্ধ করে দেন।
এরপর তিনি একটি গাড়ি ভাড়া করে সেই ট্রাঙ্কটি সরাসরি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া বাড়িতে হঠাৎ আসা এই বিশালাকার ট্রাঙ্ক এবং তা থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ দেখে সন্দেহ হয় দ্বিতীয় স্ত্রীর। তিনি পুলিশে খবর দিলে ট্রাঙ্কটি খোলা হয় এবং ভেতর থেকে পচন ধরা দেহ উদ্ধার হয়। তদন্ত ও পলাতক অভিযুক্ত, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দ্বিতীয় স্ত্রীকে ভয় দেখানো বা তাঁকে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ফেলার জন্যই ত্বনিস এই পথ বেছে নিয়েছিলেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ত্বনিস হালদার এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন।
একাধিক নারীসঙ্গ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদ এই খুনের নেপথ্যে থাকতে পারে, লালবাজার এবং স্থানীয় থানার পুলিশ যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছে। তাঁর ফোনের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে ধরার চেষ্টা চলছে। দেহটি কতদিন আগের এবং ঠিক কীভাবে মারা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। একবার ভাবুন, একজন মানুষ কতটা নৃশংস হলে সঙ্গীকে খুন করার পর সেই দেহ ট্রাঙ্কে ভরে নিজেরই অন্য এক স্ত্রীর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিতে পারেন এই ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে পুলিশি তদন্ত যে পর্যায়ে রয়েছে |
