রাতদিন ওয়েবডেস্ক : শীতের সকাল মানেই নরম রোদ, হালকা কুয়াশা আর ঘুরে বেড়ানোর অদম্য ইচ্ছে। শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে, নদীর ধারে বসে রোদ পোহানো এর থেকে আরামদায়ক কিছু হতে পারে না। বেলাবেলি ছুটির দিনে বা একদিনের ছোট ট্রিপে ঘুরে আসতে পারেন নদীপারের এই ৫টি সুন্দর ঠিকানায়।
কোথা থেকে কীভাবে যাবেন, কী দেখবেন সবই রইল বিস্তারিতভাবে। বাগবাজার ঘাট হুগলি নদী কলকাতার বুকেই শীতের রোদ মাখতে চাইলে বাগবাজার ঘাটের জুড়ি নেই। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত গঙ্গার ধারে হাঁটা, নৌকো চলাচল দেখা আর ঠান্ডা হাওয়ায় রোদ পোহানো মনটাই যেন হালকা হয়ে যায়। গঙ্গায় সূর্যোদয়, নৌকো, ফেরি চলাচল, ঘাটের ধারে বসে চা সিঙ্গাড়া, শিয়ালদহ বা উত্তর কলকাতার যেকোনও প্রান্ত থেকে বাস মেট্রো করে শ্যামবাজার, সেখান থেকে অটো বা হেঁটে। মায়াপুর নদীয়া শান্ত পরিবেশ, খোলা আকাশ আর নদীর ধারে নির্জন সময় কাটাতে চাইলে মায়াপুর আদর্শ। ভাগীরথীর পাড়ে বসে শীতের রোদে বই পড়া বা নিঃশব্দে প্রকৃতি উপভোগ করার আলাদা আনন্দ আছে।
ভাগীরথী নদী, ইসকন মন্দির, সবুজ মাঠ ও গ্রামবাংলার দৃশ্য, শিয়ালদহ থেকে কৃষ্ণনগর, সেখান থেকে নৌকা বা বাসে মায়াপুর, চন্দননগর স্ট্র্যান্ড, ফরাসি ছোঁয়া আর নদীপারের সাজানো প্রমেনাড চন্দননগর স্ট্র্যান্ড শীতের বিকেলের জন্য একেবারে পারফেক্ট। রোদে হাঁটতে হাঁটতে ইতিহাস আর নদীর সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। হুগলি নদী, স্ট্র্যান্ডের আলো ছায়া, চার্চ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা, হাওড়া স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেনে চন্দননগর। রাইচক হুগলি একদিনের ছুটি হলে রাইচক হতে পারে দারুণ গন্তব্য। নদীর ধারে বসে শীতের রোদ, শান্ত পরিবেশ আর সবুজে ঘেরা চারপাশ মন ভালো করে দেওয়ার মতো জায়গা।
গঙ্গার প্রশস্ত রূপ, রাইচক ফর্ট এলাকা, সূর্যাস্তের দৃশ্য, কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে বাস বা গাড়িতে। তাকি ইছামতী নদী বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা তাকি শীতে আলাদা সৌন্দর্য নেয়। ইছামতীর পাড়ে বসে রোদ পোহাতে পোহাতে নৌকো আর ওপার বাংলার দৃশ্য দেখা এই অভিজ্ঞতা ভুলবার নয়। ইছামতী নদী, নৌবিহার, নদীপারের খাবার, শিয়ালদহ থেকে হাসনাবাদ লোকাল, সেখান থেকে অটো বা রিকশায় তাকি। শীতের নদীভ্রমণের টিপস সকাল বা বিকেল বেছে নিন, হালকা জ্যাকেট সঙ্গে রাখুন, ক্যামেরা বা ফোন চার্জ করে নিন, নদীর ধারে বসে সময় কাটান, তাড়াহুড়ো নয়, শীতের রোদ, নদীর হাওয়া আর একটু অবসর এই তিনের মেলবন্ধনেই তৈরি হয় সেরা ভ্রমণ। তাই বেলাবেলি সময় পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, নদীপারের এই ঠিকানাগুলোর যেকোনও একটিতে। মন ভালো থাকবেই।
