Type Here to Get Search Results !

Japan Philippines Deal : দক্ষিণ চীন সাগরে লালফৌজের দাপট কমাতে টোকিয়ো ম্যানিলা জোট।অস্বস্তিতে বেইজিং

 রাতদিন ওয়েবডেস্ক : তাইওয়ান প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের আগ্রাসী নীতির প্রেক্ষাপটে জাপান ও ফিলিপিন্সের মধ্যকার নতুন সামরিক চুক্তিটি এশীয় ভূ রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড়।

 জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার সম্প্রতি ফিলিপিন্সের সঙ্গে ‘অ্যাকুইজিশন এবং ক্রস সার্ভিসিং এগ্রিমেন্ট’ এসিএসএ স্বাক্ষর করেছে, যার মূল লক্ষ্য হলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে জ্বালানি, গোলাবারুদ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের করমুক্ত বিনিময় নিশ্চিত করা। দক্ষিণ চীন সাগরের সেকেন্ড থমাস শোল এবং স্কারবোরো শোল দ্বীপ নিয়ে ফিলিপিন্স ও চীনের দীর্ঘদিনের বিরোধ এই চুক্তিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশেষ করে, ১৯৯৯ সাল থেকে ফিলিপিন্স নৌবাহিনীর একটি অস্থায়ী জাহাজকে কেন্দ্র করে চলা বিবাদ এবং ২০১২ সালে চীনের জোরপূর্বক দ্বীপ দখলের ইতিহাস এই অঞ্চলে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে রেখেছে।

 কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ২১ শতাংশেরও বেশি পণ্য পরিবহণ করা হয়, ফলে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অপরিহার্য। চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে তবে জাপান যে নীরব থাকবে না, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এমন দৃঢ় অবস্থানের পরই বেইজিং টোকিয়োকে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অতীতে সেনকাকু দ্বীপের নাম বদল থেকে শুরু করে জাপানি জলসীমায় লালফৌজের রণতরী পাঠানো সব মিলিয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে আমেরিকা, জাপান এবং ফিলিপিন্সের সমন্বয়ে গঠিত ‘স্কোয়াড’ জোট এখন আরও সক্রিয়। 

ভিয়েতনাম, ব্রুনেই বা মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোও যখন চীনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার, তখন জাপানের এই নতুন কৌশলগত উদ্যোগ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় চীনের একাধিপত্য প্রতিরোধের এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। টোকিয়োর এই পদক্ষেপ কেবল ফিলিপিন্সকে সুরক্ষা দেওয়া নয়, বরং সমগ্র ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বড় প্রচেষ্টা।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad